বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–এর অঙ্গসংগঠন ওলামা দলের নাসিরনগর উপজেলা শাখার নামে ভুয়া কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় তীব্র সাংগঠনিক অস্থিরতা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। জেলা ও কেন্দ্রের একাধিক আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাধ্যমে এই ভুয়া কমিটিকে সম্পূর্ণ অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
জানা যায়, গত ৩১ মে ২০২৫ ইং তারিখে ওলামা দল ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার সুপার টেন নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে এবং নাসিরনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম এ হান্নান ও সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আলী আজম চৌধুরীর উপস্থিতি ও সুপারিশক্রমে নাসিরনগর উপজেলা ওলামা দলের ৫১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়।ঘোষিত কমিটিতে মাওলানা মোহাম্মদ মাজহারুল করিমকে সভাপতি ও মাওলানা মাহমুদ উল্লাহ আশরাফীকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মনোনীত করা হয়। কমিটিটি আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের স্বাক্ষরিত এবং জেলা ও কেন্দ্রীয় নীতিমালা অনুযায়ী গঠিত বলে দলীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে।
কমিটি ঘোষণার পর থেকেই তারা নাসিরনগর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা এবং বর্তমানে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে প্রচার-প্রচারণায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে আসছে।
কিন্তু সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাওলানা আল আমিন ও মাওলানা শরিফের স্বাক্ষরিত একটি তথাকথিত আহ্বায়ক কমিটি ছড়িয়ে পড়লে নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়। অনুসন্ধানে জানা যায়, মাওলানা আল আমিন জেলা ওলামা দলের আহ্বায়ক কমিটিতে দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে একাধিক উপজেলা ও পৌরসভায় অনুমোদনহীন কমিটি গঠন, সাংগঠনিক কর্তৃত্ব জাহির এবং জেলা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়কদের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা করে চাঁদা আদায়ের অভিযোগে জড়িয়ে পড়েন।
চাঁদা না দিলে নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি সংবলিত একটি ভিডিও ক্লিপ সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি গুরুতর আকার ধারণ করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে জেলা ওলামা দলের আহ্বায়ক কমিটি রেজুলেশনের মাধ্যমে মাওলানা আল আমিনকে অব্যাহতি প্রদান করে এবং সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাওলানা ইসহাককে ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক হিসেবে নিয়োগ দেয়। সংশ্লিষ্ট সকল কাগজপত্র কেন্দ্রীয় কমিটির নিকট প্রেরণ করা হলে কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক তা আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করেন।
এ বিষয়ে আরও স্পষ্ট অবস্থান জানিয়ে গত ১১ জানুয়ারি ২০২৬ ইং তারিখে ওলামা দল ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কমিটির প্যাডে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে মাওলানা ওবাইদুল্লাহ (যুগ্ম আহ্বায়ক ও দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত) স্বাক্ষর করেন।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয় যে, ৩১/০৫/২০২৫ ইং তারিখে ঘোষিত ৫১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি যাতে মাওলানা মাজহারুল করিম সভাপতি ও মাওলানা মাহমুদ উল্লাহ আশরাফী সাধারণ সম্পাদক এই কমিটিই একমাত্র বৈধ ও অনুমোদিত কমিটি। পাশাপাশি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথাকথিত আহ্বায়ক কমিটিকে ভুয়া, ভিত্তিহীন ও সাংগঠনিকভাবে অবৈধ ঘোষণা করা হয়।
দলীয় সূত্র জানায়, জেলা আহ্বায়ক কমিটির প্রায় সকল যুগ্ম আহ্বায়ক ও সদস্য ইতোমধ্যে মাওলানা আল আমিনের কর্মকাণ্ড থেকে নিজেদের বিচ্ছিন্ন করেছেন। এরপরও তিনি বিভিন্ন উপজেলায় ও পৌরসভায় ভুয়া কমিটি দিয়ে সংগঠনের মধ্যে অরাজকতা, বিশৃঙ্খলা ও সাংগঠনিক নৈরাজ্য সৃষ্টি করার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
দলীয় নেতৃবৃন্দ নাসিরনগর উপজেলা ওলামা দলের নেতাকর্মীদের বিভ্রান্ত না হয়ে কেন্দ্র ও জেলা অনুমোদিত বৈধ কমিটির নেতৃত্বে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এবং ভুয়া কমিটি সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়েও কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন।
খ ম জায়েদ হোসেন, নাসিরনগর










