ঢাকা-১ আসনে ফল ঘোষণার পর সৌজন্যের দৃষ্টান্ত, প্রশংসায় আশফাক–নজরুল

ঢাকা-১ আসনের নির্বাচন ঘিরে উত্তেজনা থাকলেও ফল ঘোষণার পর দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। প্রতিদ্বন্দ্বিতা শেষে পারস্পরিক সৌজন্য ও সহমর্মিতায় মুগ্ধ স্থানীয়রা। প্রশংসায় ভাসছেন বিএনপির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য খন্দকার আবু আশফাক ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ব্যারিস্টার নজরুল ইসলাম।

বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণার পর ব্যারিস্টার নজরুল ইসলাম তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী খন্দকার আবু আশফাককে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাসের মাধ্যমে অভিনন্দন জানান। নির্বাচন-পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, জনগণের রায়ে আশফাক সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য দল-মত নির্বিশেষে দোহার-নবাবগঞ্জের সার্বিক উন্নয়নে কাজ করবেন। একই সঙ্গে গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা ও রাজনৈতিক সহনশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।

বিজয়ের পরদিন শুক্রবার সকালে সৌজন্য সাক্ষাতে নজরুল ইসলামের বাসায় যান খন্দকার আবু আশফাক। ফুলের তোড়া হাতে প্রায় অর্ধঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে অংশ নেন দুজন। আপ্যায়নে ছিল ফল, বিস্কুট ও কোমল পানীয়। আলোচনায় উঠে আসে এলাকার অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়নের বিষয়।

সাক্ষাৎ শেষে আশফাক সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি দোহার-নবাবগঞ্জের সবার এমপি। আমার বিজয়কে কেন্দ্র করে কেউ যেন ব্যক্তিগত আক্রোশে না জড়ায়। আমি চাই দোহার-নবাবগঞ্জ হোক সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত। জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করাই আমার চূড়ান্ত লক্ষ্য।

নজরুল ইসলাম বলেন, দোহার-নবাবগঞ্জের উন্নয়নে প্রয়োজন হলে তিনি সহযোগিতা করবেন। তিনি আরও বলেন, প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও ব্যক্তিগত সম্পর্কে কোনো দূরত্ব তৈরি হয়নি।
আশফাক জানান, নির্বাচনের আগে ও পরে তাঁদের মধ্যে কোনো নেতিবাচক প্রচার বা অভিযোগ ছিল না। ‘আমরা উন্নয়নেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছি,’ বলেন তিনি।

স্থানীয়দের মতে, এমন রাজনৈতিক সৌজন্য অনেক দিন পর দেখা গেল। সাধারণ ভোটারদের ভাষ্য, নির্বাচন-পরবর্তী উত্তেজনার পরিবর্তে দুই প্রার্থীর এই আচরণ ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। অনেকেই একে ‘পজিটিভ পলিটিক্স’-এর উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিদ্বন্দ্বিতার পরও পারস্পরিক সম্মান প্রদর্শন গণতন্ত্রের জন্য শুভ লক্ষণ। এতে উন্নয়নকেন্দ্রিক রাজনীতির চর্চা জোরদার হতে পারে।

মাহমুদুল হাসান সুমন, দোহার