নোয়াখালীতে গণপিটুনিতে শীর্ষ সন্ত্রাসী নিহত

পেট কাটা খালাসি সুমন বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড ফখরুল ইসলাম মঞ্জু ওরফে বলি (২৫) ছিনতাইকরার সময় গণপিটুনিতে নিহত  হয়েছেন। এ ঘটনায় এলাকাবাসী আনন্দ মিছিল করেছেন। গতকাল সকাল সাড়ে ৭টার দিকে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মান্দার বাড়ির দরজায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত বলি চৌমুহনী পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের খালাসি বাড়ির বদিউজ্জামানের ছেলে। সে তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।

চৌমুহনী বাজারের ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মোতালেব জানান, সকালে তার ছেলে মিজানুর রহমান জমি রেজিস্ট্রি করার জন্য ২০ লাখ ৫০ হাজার টাকা নিয়ে বাড়ি থেকে চৌমুহনী বাজারের উদ্দেশ্যে বের হয়। যাত্রাপথে উপজেলার মনতাজ স্যারের বাড়ির সামনে পৌঁছলে বলি ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা তার ছেলেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে নামিয়ে মারধর করে টাকাগুলো ছিনিয়ে নেয়। পরে খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন মাইকে ঘোষণা দিয়ে বলিকে গণপিটুনি দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যায়। তাৎক্ষণিক বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী সন্ত্রাসীদের বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ করে এবং নিহত বলির আড্ডাখানায় হামলা চালায়।

নিহতের পরিবার জানায়, গতকাল ভোর ৬টার দিকে বলি তার বড় বোন শাহনাজ আক্তার টুম্পার অসুস্থ মেয়েকে দেখতে তাদের বাড়িতে যায়। সেখান থেকে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে পুনরায় নিজের বাড়ি ফেরার পথে উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নের মান্দার বাড়ির দরজায় পৌঁছলে আগে থেকে ওত পেতে থাকা ১৫-২০ জন কিশোর গ্যাং সদস্য তাকে সিএনজিতে কোপ দেয়। পরে সিএনজি থেকে পড়ে গেলে তারা তাকে বেধড়ক পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করে। তাদের দাবি, পূর্ব শত্রুতার জেরে বলিকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এমএ বারী মানবজমিনকে বলেন, অস্ত্র, বিস্ফোরকসহ নিহত বলির বিরুদ্ধে ৫-৭টি মামলা রয়েছে। এলাকায় তার বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জনঅসন্তোষে তাকে গণপিটুনি দেয়। মরদেহ উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।