সন্দ্বীপ উপজেলা ও পৌরসভা ছাত্রদলের ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন দ্বীপ সন্দ্বীপ। প্রায় চার হাজার বছরের ইতিহাসসমৃদ্ধ এই দ্বীপে বর্তমানে প্রায় পাঁচ লক্ষ মানুষের বসবাস। সন্দ্বীপ জাতীয় সংসদের সংসদীয় আসন-২৮০, চট্টগ্রাম-৩। আসনটিতে মোট ভোটার সংখ্যা প্রায় দুই লক্ষ ৬১ হাজার। এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরেই বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত।
এই আসনে বিএনপির প্রার্থী মোস্তফা কামাল পাশা এর আগে তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। চতুর্থবারের স্বপ্ন নিয়ে তিনি এবারও দলের মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় রয়েছেন।
সন্দ্বীপ উপজেলা ও পৌরসভা ছাত্রদলের ইউনিটগুলোর উদ্যোগে এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের কর্মসূচির অংশ হিসেবে ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক একটি প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। সারা দেশের ন্যায় গত ১০ জানুয়ারি ২০২৬, শনিবার, সেনেরহাটস্থ এবি হাই স্কুলে দিনব্যাপী এই কর্মশালা আয়োজন করা হয়।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ভবিষ্যতে রাষ্ট্রক্ষমতায় এলে দেশ পরিচালনায় কী ধরনের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে, তা জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে এই প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। বিএনপির ঘোষিত এসব পরিকল্পনা নয়টি লিফলেটের মাধ্যমে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের কাছে তুলে ধরা হয়, যাতে তারা সাধারণ মানুষের কাছে তা সঠিকভাবে প্রচার করতে পারেন।
এই নয়টি পরিকল্পনার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো—
১. ধর্মীয় ও সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি:
খতিব, ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের জন্য মাসিক সম্মানী প্রদান, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় বিশেষ ভাতা, দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি, মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম সারাদেশে সম্প্রসারণ, ইমাম-মুয়াজ্জিন কল্যাণ ট্রাস্টকে সময়োপযোগী ও শক্তিশালী করা। একইসঙ্গে অন্যান্য ধর্মের (হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ) উপাসনালয়ের প্রধানদের জন্যও সম্মানী ও উৎসব ভাতা প্রদানের পরিকল্পনা।
২. নারী উন্নয়ন ও পরিবার সুরক্ষা:
‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর মাধ্যমে প্রতিটি পরিবারকে মাসিক দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা অথবা চাল, ডাল, তেল, লবণসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য সহায়তা প্রদান। এর মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন, ক্ষুধামুক্তি ও নারীর স্বাবলম্বিতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি।
৩. কৃষকের উন্নয়নে কৃষক কার্ড:
ন্যায্যমূল্যে সার, বীজ ও কীটনাশক, সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা, স্বল্পমূল্যে কৃষিযন্ত্র ক্রয়, কম খরচে সেচ সুবিধা, সহজ শর্তে কৃষিঋণ, কৃষি বীমা, ন্যায্যমূল্যে কৃষিপণ্য বিপণন, কৃষি প্রশিক্ষণ এবং মোবাইল ফোনে আবহাওয়া ও বাজার তথ্য সরবরাহের পরিকল্পনা।
৪. নদী, খাল ও পরিবেশ রক্ষা:
সারাদেশে অন্তত ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খনন, তিস্তা ও পদ্মা ব্যারেজ উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ, পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ রোপণ এবং সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার অঙ্গীকার।
৫. ক্রীড়া উন্নয়ন:
খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে গড়ে তোলা, চতুর্থ শ্রেণি থেকে বাধ্যতামূলক খেলাধুলা শিক্ষা, ৬৪ জেলায় স্পোর্টস ভিলেজ নির্মাণ, প্রতিটি উপজেলায় ক্রীড়া কর্মকর্তা ও শিক্ষক নিয়োগ, বিভাগীয় শহরে বিকেএসপির শাখা স্থাপন এবং গ্রাম থেকে আন্তর্জাতিক পর্যায় পর্যন্ত খেলাধুলার সুযোগ সম্প্রসারণ।
এছাড়াও রয়েছে—
৬. সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ গঠনের পরিকল্পনা,
৭. আনন্দময় শিক্ষা ও দক্ষ জনশক্তি তৈরির উদ্যোগ,
৮. দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গঠনের পরিকল্পনা,
৯. দেশব্যাপী কর্মসংস্থান ও সমান সুযোগ নিশ্চিতকরণ।
‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানকে সামনে রেখে এসব পরিকল্পনার বিস্তারিত ব্যাখ্যা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরতেই এই প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
কর্মশালাটি পরিচালনা করেন কেন্দ্রীয় ছাত্রদল ও কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের প্রশিক্ষিত একটি টিম। প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সরকারি তিতুমীর কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোশারফ হোসেন রাব্বি এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক নাজিমুদ্দিন।
চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনের ধানের শীষের প্রার্থী মোস্তফা কামাল পাশার দিকনির্দেশনায় কর্মশালাটিতে সার্বিক সহযোগিতা করেন সন্দ্বীপ উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মো. শহীদুল ইসলাম। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক নুরুদ্দিন।
কর্মশালাটি সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে গঠিত পাঁচ সদস্যের শৃঙ্খলা কমিটির দায়িত্বে ছিলেন ছাত্রদল নেতা আবু সাঈদ খান, আব্দুল ওয়াজেদ অনিক, ইঞ্জিনিয়ার সৌরভ ভূঁইয়া, আরিফুল ইসলাম এবং এ এইচ সুজন।

আবু সাঈদ খান, সন্দ্বীপ