মিয়ানমারের জান্তা সরকারের আয়োজিত তিন ধাপের সাধারণ নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার দাবি করেছে সেনাবাহিনী সমর্থিত প্রভাবশালী রাজনৈতিক দল ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি)। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দলটির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা দাবি করেছেন, সংসদের নিম্নকক্ষের এ পর্যন্ত ঘোষিত আসনগুলোর প্রায় ৯০ শতাংশই তাদের দখলে এসেছে। তবে বৈশ্বিক গণতন্ত্র পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা এবং জাতিসংঘ এই নির্বাচনকে সামরিক ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার একটি ‘সাজানো প্রহসন’ হিসেবে অভিহিত করেছে।
ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি এবং স্থানীয় গণমাধ্যমগুলোর তথ্যমতে, গত রোববার অনুষ্ঠিত নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে ১০০টি আসনের মধ্যে ৮৭টি জিতেছে ইউএসডিপি। এর আগে ডিসেম্বরের প্রথম ধাপের ফলে দলটি বড় জয় পেয়েছিল। এখন পর্যন্ত ৩৩০টি নির্বাচিত আসনের মধ্যে ১৭৬টিতে ইউএসডিপি-র বিজয় নিশ্চিত হয়েছে, যা নিম্নকক্ষের অর্ধেকেরও বেশি। উল্লেখ্য, আগামী ২৫ জানুয়ারি তৃতীয় ও শেষ ধাপের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, মিয়ানমারের বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী নিম্নকক্ষের ৪৪০টি আসনের মধ্যে ১১০টি আসন (২৫ শতাংশ) সরাসরি সশস্ত্র বাহিনীর জন্য সংরক্ষিত। ইউএসডিপি-র সদস্যরা মূলত অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা হওয়ায়, সংসদে তাদের এই সংখ্যাগরিষ্ঠতা মূলত জেনারেল মিন অং হ্লেইংয়ের শাসনকেই বৈধতা দেওয়ার একটি আইনি কাঠামো তৈরি করবে। আগামী মার্চে সংসদ অধিবেশন শুরু হলে নিম্ন ও উচ্চকক্ষ মিলে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করবেন, যেখানে মিন অং হ্লেইংয়ের শীর্ষ বেসামরিক পদ গ্রহণের পথ প্রশস্ত হতে পারে।
মিয়ানমারে নিযুক্ত জাতিসংঘের মানবাধিকার-বিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদক টম অ্যান্ড্রুজ এই নির্বাচনের কড়া সমালোচনা করেছেন। তিনি এক বিবৃতিতে বলেন, “যেখানে হাজার হাজার রাজনৈতিক বন্দি কারাগারের পেছনে, প্রধান বিরোধী দল (এনএলডি) বিলুপ্ত এবং সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ করা হয়েছে, সেখানে কোনো অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।” তিনি একে ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ধোঁকা দেওয়ার একটি থিয়েটার পারফরম্যান্স’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
২০২১ সালে অং সান সু চির গণতান্ত্রিক সরকারকে হটিয়ে ক্ষমতা দখলের পর এটিই জান্তা সরকারের প্রথম বড় নির্বাচন। সু চির দল ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) এই নির্বাচনে অংশ নেয়নি এবং অনেক বিরোধী নেতা বর্তমানে কারারুদ্ধ বা নির্বাসিত। গৃহযুদ্ধ কবলিত দেশটিতে বন্দুকের নলের মুখে ভোট দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে অনেক জায়গায়। ফলে এই নির্বাচনের মাধ্যমে মিয়ানমারে শান্তি ফেরার সম্ভাবনা দেখছেন না আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
-এম. এইচ. মামুন










