রাষ্ট্র সংস্কারের প্রত্যাশা নিয়ে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার একের পর এক অধ্যাদেশ জারি করলেও তাতে সুশাসন ও জবাবদিহি নিশ্চিতের মৌলিক সুপারিশগুলো উপেক্ষিত হচ্ছে বলে মনে করছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি বলছে, সংস্কারের নামে এমন আইনি কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে যা কার্যত দায়মুক্তির সুযোগ তৈরি করছে এবং পুরোনো আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থারই পুনরাবৃত্তি ঘটাচ্ছে।
সোমবার বেলা ১১টায় রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবি কার্যালয়ে ‘অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশ প্রণয়নে সংস্কার বিমুখতা’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।
জুলাই সনদের চেতনা উপেক্ষার অভিযোগ: ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্র সংস্কার নিয়ে যে উচ্চাশা তৈরি হয়েছিল, সরকারের সাম্প্রতিক অধ্যাদেশগুলোতে তার প্রতিফলন নেই। শতাধিক অধ্যাদেশ জারি করে রেকর্ড গড়া হলেও বড় অংশে জুলাই সনদের চেতনা উপেক্ষিত হয়েছে। বরং সংস্কারের নামে পুরোনো নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকেই নতুনভাবে প্রতিষ্ঠা করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।”
প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন: সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), পুলিশ কমিশন ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের মতো রাষ্ট্রের মৌলিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা ও জবাবদিহির কাঠামো এখনো নিশ্চিত করা হয়নি। টিআইবির মতে, সংস্কার-প্রতিরোধক অপশক্তির কাছে সরকার এক ধরনের আত্মসমর্পণ করেছে। শুরু থেকেই এই অপশক্তিকে চিহ্নিত করে প্রতিহত করার গুরুত্ব সরকার বুঝতে চায়নি, যার ফলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ বাতিল হয়ে গেছে।
অ্যাডহক ভিত্তিক বাছাই পদ্ধতি: টিআইবি প্রধান আরও বলেন, সরকার সংস্কার বাস্তবায়নের নামে ‘অ্যাডহক ভিত্তিক বাছাই পদ্ধতি’ অনুসরণ করছে। এর ফলে কম গুরুত্বপূর্ণ বা কোনো কোনো ক্ষেত্রে সংস্কার-পরিপন্থী আইন ও সিদ্ধান্ত গৃহীত হচ্ছে। সংস্কার কমিশনের কাছ থেকে পাওয়া দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য সুপারিশগুলোর ক্ষেত্রেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই।
সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির অন্যান্য উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তারা মনে করেন, যদি এখনই স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত না করা হয়, তবে রাষ্ট্র সংস্কারের মূল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হবে।
–লামিয়া আক্তার










