গণভোটে নির্ধারণ হবে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ: বরিশালে আলী রিয়াজ

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, ‘গণভোট হচ্ছে ভবিষ্যতের বাংলাদেশ কেমন হবে তার পথরেখা নির্ধারণের একটি প্রক্রিয় । দেশজুড়ে গণভোটের প্রচার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে রবিবার (১১ জানুয়ারি) বরিশালের বেলস পার্কে বিভাগীয় প্রশাসন ও ইসলামিক ফাউন্ডেশন আয়োজিত বিভাগীয় ইমাম সম্মেলনে যোগ দিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী এ কথা বলেন।

বরিশাল বিভাগের কমিশনার মো. মাহফুজুর রহমানের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐক্যমত্য) মনির হায়দার এবং ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামাল উদ্দিন।

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রিয়াজ বলেছেন, ‘গণভোট হচ্ছে ভবিষ্যতের বাংলাদেশ কেমন হবে, তার পথরেখা নির্ধারণের একটি প্রক্রিয়া। আসুন, সকলে মিলে এই সুযোগ গ্রহণ করি। জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্যরা, গুমের শিকার পরিবারের সদস্যরা আমাদের এই দায়িত্ব দিয়েছেন, তাই আসুন আমরা তাঁদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করি। সকলে মিলে একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলি।’

রোববার দুপুরে বরিশাল নগরের বেলস পার্কে গণভোট প্রচারে বিভাগীয় ইমাম সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আলী রীয়াজ এ কথা বলেন। গণভোটের প্রচার ও ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করতে বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় কর্মসূচির প্রথম দিনে আজ বরিশাল বিভাগের ইমামদের নিয়ে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন জেলায় কর্মরত বারো শতাধিক ইমাম সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন।

সম্মেলনে আসন্ন গণভোটে সরকারের প্রচার কার্যক্রমের মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, অনেক সংগ্রামের বিনিময়ে পাওয়া এ বাংলাদেশের প্রকৃত মালিক দেশের জনগণ। গণভোটের মধ্য দিয়ে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের পথরেখা তৈরি হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগামী দিনে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা দেশ কীভাবে চালাবেন, এ গণভোটের মাধ্যমে তা নির্ধারণ করে দেওয়ার সুযোগ সবাইকে কাজে লাগাতে হবে।

অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, আমরা এমন একটি রাষ্ট্র চেয়েছি যেখানে সরকার জনগণের কাছে জবাবদিহি করবে।

কিন্তু বিগত চুয়ান্ন বছরেও আমরা সেই লক্ষ্য অর্জনের কাছাকাছিও পৌঁছাতে পারিনি। তিনি বলেন, গত ষোল বছরের ফ্যাসিস্ট শাসন, অত্যাচার ও নিপীড়ন থেকে এটুকু পরিষ্কার যে, এ ব্যবস্থার পরিবর্তন ছাড়া আমরা এগিয়ে যেতে পারব না।

সম্মেলনে বিশেষ অতিথি প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐক্যমত্য) মনির হায়দার অংশ নেওয়া ইমামদের উদ্দেশে বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আমরা এক খুনি মাফিয়াকে দেশ থেকে বিতাড়িত করে দেশের মালিকানা পুনরুদ্ধারে সংস্কার প্রক্রিয়া শুরু করেছিলাম। আসন্ন গণভোট দেশ গড়ার পথে পরবর্তী বড় ধাপ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ গণভোট ব্যর্থ হলে সেই খুনি মাফিয়া আবার ফিরে আসবে। সুতরাং সবার অংশগ্রহণের মাধ্যমে গণভোট সফল করার কোনো বিকল্প নেই।

তাদের এ মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে আলেম সমাজকে সত্য তথ্য তুলে ধরে ভোটারদের সংশয় দূর করতে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামাল উদ্দিন বলেন, সত্য প্রতিষ্ঠার জন্য আলেমরা গত ষোল বছরে অনেক অত্যাচার ও জুলুমের শিকার হয়েছেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে এ প্রথমবার দেশ কেমন হবে তা নির্ধারণের সুযোগ এসেছে উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, আসন্ন গণভোটে দেশের আলেম সমাজ সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখবেন।

বরিশাল রেঞ্জ পুলিশের ডিআইজি মো. মঞ্জুর মোর্শেদ আলম, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম, বরিশাল বিভাগীয় ইমাম সমিতির সভাপতি মাওলানা আবদুল নিজামী এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশন বরিশালের পরিচালক মো. নুরুল ইসলাম সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন।’

সম্মেলনে বক্তারা বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ ব্যক্তিকে ভোট দেবেন, আর গণভোটের মাধ্যমে হবে ব্যবস্থার পরিবর্তন। আগামীর বাংলাদেশ কীভাবে চলবে, কোন পথে চলবে, তারই দিকনির্দেশনা নির্ধারিত হবে গণভোটের মাধ্যমে। এ কারণে গণভোটকে দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। তাঁরা বলেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ সূচকে ভোট দিয়ে নাগরিকদের ইমানি দায়িত্ব পালন করা উচিত।