যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) চেয়ারম্যান জেরোম এইচ. পাওয়েলের বিরুদ্ধে ফৌজদারি তদন্ত শুরু করেছে ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়ার ইউএস অ্যাটর্নি অফিস। ওয়াশিংটনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সদর দপ্তরের সংস্কার কাজ এবং এ বিষয়ে প্রকল্পের পরিধি নিয়ে তিনি কংগ্রেসকে মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন কিনা মূলত এই অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্তটি পরিচালিত হচ্ছে।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের মিত্র এবং অ্যাটর্নি অফিসের প্রধান জেনিন পিরো গত নভেম্বরে এই তদন্তের অনুমোদন দেন। তদন্তে পাওয়েলের জনসমক্ষে দেওয়া বক্তব্য বিশ্লেষণ এবং ব্যয়ের নথিপত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই তদন্তের মাধ্যমে পাওয়েলের সাথে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের বিরোধ নতুন মাত্রা পেল। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী সুদের হার ব্যাপকভাবে না কমানোর কারণে তিনি প্রতিনিয়ত পাওয়েলের সমালোচনা করে আসছিলেন এবং তাঁকে বরখাস্ত করার হুমকিও দিয়েছিলেন। ট্রাম্প প্রশাসন এই সংস্কার প্রকল্পকে কেন্দ্র করে পাওয়েলের বিরুদ্ধে “অদক্ষতার” অভিযোগ এনে মামলার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।
রোববার প্রকাশিত এক বিরল ভিডিও বার্তায় পাওয়েল এই তদন্তকে “নজিরবিহীন” বলে অভিহিত করেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, এটি ফেডারেল রিজার্ভের স্বাধীনতার ওপর আঘাত। পাওয়েল বলেন, “রাজনৈতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে জনস্বার্থে সুদের হার নির্ধারণ করার কারণেই আজ ফৌজদারি অভিযোগের হুমকি আসছে। আমি কোনো রাজনৈতিক ভয় বা পক্ষপাত ছাড়াই আমার দায়িত্ব পালন করেছি।”
ফেড সদর দপ্তরের এই সংস্কার কাজ ২০২২ সালে শুরু হয় এবং ২০২৭ সালে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এই প্রকল্পে বাজেট নির্ধারিত সীমার চেয়ে প্রায় ৭০০ মিলিয়ন ডলার বেড়ে গেছে। কংগ্রেসে অভিযোগ উঠেছিল যে এই প্রকল্পে ব্যক্তিগত লিফট ও নতুন মার্বেলের মতো বিলাসিতা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যদিও পাওয়েল শুনানিতে তা অস্বীকার করেছিলেন।
এদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি পাওয়েলের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে কাউকে বেছে নিয়েছেন এবং শীঘ্রই তা ঘোষণা করবেন। ট্রাম্পের শীর্ষ অর্থনৈতিক উপদেষ্টা কেভিন এ. হ্যাসেন্ট এই পদের জন্য এগিয়ে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। নর্থ ক্যারোলিনার রিপাবলিকান সিনেটর থম টিলিস এই তদন্তের বিরোধিতা করে একে বিচার বিভাগের বিশ্বাসযোগ্যতার ওপর প্রশ্ন বলে মন্তব্য করেছেন।









