বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন দ্বীপ সন্দ্বীপে বর্তমানে প্রায় পাঁচ লক্ষ মানুষের বসবাস। এ উপজেলাটি বাংলাদেশের অন্যতম সর্বোচ্চ রেমিটেন্স প্রেরণকারী এলাকা হিসেবে পরিচিত। অতীতে একাধিকবার রেমিটেন্স প্রাপ্তির দিক থেকে দেশের শীর্ষস্থানেও ছিল সন্দ্বীপ।
জাতীয় সংসদের সংসদীয় আসন-২৮০, চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনে এবছর মোট ভোটার সংখ্যা প্রায় ২ লাখ ৬১ হাজার। অথচ এই জনবহুল দ্বীপ উপজেলায় গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে কোনো সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নেই। ফলে কার্যত বিচার ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।
গত ০৯ ডিসেম্বর ২০২৫ ইং তারিখে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বদলি হওয়ার পর ৩৫ দিন অতিবাহিত হলেও এখনো নতুন কোনো সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হয়নি। এতে করে সন্দ্বীপের মানুষ ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার থেকে চরমভাবে বঞ্চিত হচ্ছে। বিচারপ্রার্থী ও বিচার প্রত্যাশী জনগণ পড়েছে চরম অসহায়ত্বে।
নতুন মামলা দাখিল এবং পুরনো মামলার নিষ্পত্তি বন্ধ থাকায় মামলার জট দিন দিন বেড়েই চলেছে। প্রায় সাড়ে তিন হাজার বছরের ইতিহাসসমৃদ্ধ এই দ্বীপ উপজেলা দেশের মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ায় এখানকার মানুষের ভোগান্তি আরও বেড়ে গেছে।
সন্দ্বীপ থেকে ঢাকা কোর্টের দূরত্ব প্রায় ২৩৫ থেকে ২৫০ কিলোমিটার এবং চট্টগ্রাম কোর্টের দূরত্ব প্রায় ৫২ কিলোমিটার। অথচ ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যেতে যে সময়, অর্থ ও কষ্ট হয়, তার চেয়েও বেশি সময় ও ব্যয় লাগে সন্দ্বীপ থেকে চট্টগ্রাম কোর্টে পৌঁছাতে। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে প্রায়ই চট্টগ্রাম-সন্দ্বীপ নৌযান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এছাড়া সারা বছরই রাতের বেলা যাতায়াত সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে।
স্বাধীনতার ৫০ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো সন্দ্বীপ থেকে চট্টগ্রাম কিংবা চট্টগ্রাম থেকে সন্দ্বীপে রাতের বেলা চলাচলের জন্য কোনো নিরাপদ, আরামদায়ক ও সাশ্রয়ী যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারেনি রাষ্ট্র। ফলে প্রায় পাঁচ লক্ষ মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে।
এই অবস্থায় সন্দ্বীপের মানুষ তাদের প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক কার্যক্রম চট্টগ্রাম গিয়ে সম্পন্ন করতে পারছে না। যার ফলশ্রুতিতে দ্বীপবাসীকে প্রতিনিয়ত নানাবিধ সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
গত দুই দিন আগে সন্দ্বীপ উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক ও প্রভাষক নিঝুম খান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সন্দ্বীপবাসীর দুর্ভোগের বিষয়টি তুলে ধরেন। আজ সন্দ্বীপ উপজেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি, সেক্রেটারি ও সদস্যরা এক সাংবাদিক সম্মেলনে সন্দ্বীপের সন্তান ও বর্তমান সরকারের মাননীয় উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান এবং আইন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে অবিলম্বে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের শূন্য পদ পূরণের দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে সন্দ্বীপ বার অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র ও জুনিয়র আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন জাফর উকিল, মঞ্জুর উকিল, নিজাম উকিল ও শাহেদ উকিল প্রমুখ।
আবু সাঈদ খান, সন্দ্বীপ










