কক্সবাজার প্রতিনিধি
কক্সবাজারের টেকনাফের হোয়াইক্যং সীমান্তে মিয়ানমার থেকে উপর্যুপরি ছোড়া গুলিতে বাংলাদেশি এক স্কুলছাত্রী ও এক জেলে গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। রবিবার (১১ জানুয়ারি) সকালের এই ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ স্থানীয় জনতা কক্সবাজার-টেকনাফ সড়ক অবরোধ করে রাখে। প্রায় তিন ঘণ্টা পর স্থানীয় সংসদ সদস্য প্রার্থীদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
ঘটনার প্রেক্ষাপট: মিয়ানমারের সংঘাত, বাংলাদেশের দুর্ভোগ
গত শুক্রবার থেকে টেকনাফ সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের বিদ্রোহী সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি এবং রোহিঙ্গাদের কয়েকটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে তীব্র সংঘাত চলছিল। এই সংঘাতের জের ধরে শুক্রবার মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে আলমগীর নামে এক বাংলাদেশি জেলে গুলিবিদ্ধ হন। এর রেশ কাটতে না কাটতেই রবিবার সকালে আবারও দুই পক্ষের গোলাগুলিতে আফনান (১০) নামে এক স্কুলছাত্রী গুলিবিদ্ধ হয়।
স্কুলছাত্রী নিহত হয়েছে—এমন গুজব ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় জনতা ক্ষোভে ফেটে পড়ে এবং সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়ক অবরোধ করে। তাদের দাবি, রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার এবং সব রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠাতে হবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ ও ক্ষোভ
হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজালাল বলেন, “আরাকান আর্মি এবং রোহিঙ্গারা সবাই রাখাইনের বাসিন্দা। তাদের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের কারণে আমরা স্থানীয়রা বারবার বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছি।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা ক্যাম্প থেকে বেরিয়ে এসে নাফ নদের তীরে বাংলাদেশের জলসীমায় অবস্থান নেয় এবং সেখান থেকে মিয়ানমারের দিকে আরাকান আর্মিকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। আরাকান আর্মি পাল্টা গুলি ছুড়লে তা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে এসে পড়ে, যার শিকার হচ্ছেন নিরীহ বাংলাদেশিরা।
প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও রাজনৈতিক নেতাদের ভূমিকা
সড়ক অবরোধের খবর পেয়ে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, পুলিশ, বিজিবি ও এপিবিএন-এর একাধিক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। পরে কক্সবাজার-৪ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরী এবং জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মওলানা নূর আহমদ আনোয়ারী ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করেন। তাদের আশ্বাসে দুপুর দেড়টার দিকে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
এদিকে, স্থানীয়দের দাবির মুখে ৫০ জন চিহ্নিত রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীসহ ৫৩ জনকে আটক করেছে বিজিবি। টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, আটককৃতদের যাচাই-বাছাই শেষে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, গুলিবিদ্ধ স্কুলছাত্রীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম পাঠানো হয়েছে।
মোঃ আশরাফুল আলম | উপ-সম্পাদক










