অনলাইন প্ল্যাটফর্ম টেলিগ্রামে ‘টাস্ক’ সম্পন্ন করে ঘরে বসে আয়ের প্রলোভন দেখিয়ে কোটি টাকারও বেশি অর্থ আত্মসাৎকারী এক প্রতারক চক্রের আরও এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির নাম মো. সোহেল মিয়া (৪১)।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের (সিপিসি) একটি দল রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর ধলপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সোহেল প্রতারণার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।
যেভাবে পাতা হয় প্রতারণার ফাঁদ
সিআইডির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এক ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে এই চক্রের সন্ধান পাওয়া যায়। ভুক্তভোগী তার এজাহারে উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে একটি অজ্ঞাত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে তাকে অনলাইন পার্ট-টাইম কাজের প্রস্তাব দেওয়া হয়। বাসায় বসে অবসর সময়ে আয়ের সুযোগ ভেবে তিনি রাজি হন।
প্রথমে প্রতারকদের নির্দেশনা অনুযায়ী একটি সাইটে ওয়ালেট খুলে ছোট ‘টাস্ক’ সম্পন্ন করে তিনি ১৫০ টাকা আয় করেন। এরপর তাকে ২৮টি টাস্ক সম্পন্ন করলে ৩৮ হাজার টাকা দেওয়ার লোভ দেখানো হয়। ভুক্তভোগী ১৪টি টাস্ক সম্পন্ন করে ২,১০০ টাকা আয় করার পর প্রতারকরা নতুন টোপ ফেলে। ২ হাজার টাকা বিনিয়োগ করলে ২,৮০০ টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলে একটি টাস্ক দেওয়া হয়। টাস্ক শেষে ওয়ালেটে টাকা জমা দেখালেও তিনি তা তুলতে পারছিলেন না।
ধাপে ধাপে কোটি টাকা আত্মসাৎ
টাকা তুলতে না পারার কারণ জানতে চাইলে প্রতারকরা একটি বিকাশ অ্যাকাউন্টে আরও টাকা পাঠাতে বলে এবং জানায়, টাকা না পাঠালে আগের জমাকৃত অর্থ তোলা যাবে না। এভাবে ধাপে ধাপে প্রলোভন দেখিয়ে চারটি পৃথক বিকাশ অ্যাকাউন্ট ও নয়টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে মোট ১ কোটি ১০ লাখ ৫৮ হাজার ৩০৫ টাকা হাতিয়ে নেয় চক্রটি।
পরবর্তীতে টাকা ফেরত চাইলে প্রতারকরা ভুক্তভোগীকে প্রাণনাশের হুমকিসহ বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখায়। প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে ভুক্তভোগী গত বছরের ২১ মে ডিএমপির লালবাগ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
সিআইডির তদন্ত
মামলার পর সিআইডি তদন্তে নেমে চক্রের মূলহোতা নাদিমকে (৩২) গ্রেপ্তার করে। নাদিম আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে চক্রের অন্য সদস্যদের নাম প্রকাশ করেন। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই এবার সোহেল মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হলো।
সিআইডি জানিয়েছে, এই চক্রের বাকি সদস্যদের শনাক্ত করতে এবং আত্মসাৎ করা অর্থ উদ্ধারে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
মোঃ আশফুল আলম | উপ-সম্পাদক










