প্রতিহিংসায় হারানো চাকরি দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে স্বপদে পুনর্বহালের লড়াই-সংগ্রাম করছেন তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী বরুন রঞ্জন ।
রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় চাকরিচ্যুত করণিক বরুন রঞ্জন দেবের হারানো চাকরি স্বপদে পুনর্বহালের জন্য দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে আইনি লড়াই-সংগ্রাম করে ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছেন না।
ঘটনাটি-কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর, মৌলভীবাজার জেলা শিক্ষা অফিস, মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক, কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরে আবেদন-নিবেদন করেও অদ্যবধি স্বপদে পুনর্বহালের প্রয়োজনীয় কোনো প্রদক্ষেপ গ্রহণ করছেন না সংশ্লিষ্ট কর্তপক্ষ।
সর্বশেষ ভুক্তভোগী বরুন রঞ্জন দেব মহামান্য হাইকোর্ট রিট পিটিশন দায়ের করেন। (মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশনের রিট পিটিশন নম্বর-১০১৬৯/২০২৫) মহামান্য হাইকোর্টের সাম্প্রতিক রিট পিটিশন নং-১০১৬৯/২০২৫এর ২০/০৭/২০২৫ খ্রি. তারিখের আদেশ অনুযায়ী, মাধবপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের করণিক বরুন রঞ্জন দেবকে বিগত ২০০৯ খ্রি. সালে অবৈধভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে মর্মে এবং তাকে পূনর্বহাল করার পক্ষে তার গত ১৬/০৬/২০২৫ইং মৌলভীবাজার জেলা শিক্ষা অফিসার মৌলভীবাজার বরাবরে করা আবেদনের নিষ্পত্তির জন্য মহামান্য আদালত আদেশ দিয়েছেন।
মহামান্য উচ্চ আদালতের আদেশের পরেও জেলা শিক্ষা অফিসার বিষয়টির নিষ্পত্তির উদ্যোগ না নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ হিসেবে জেলা প্রশাসক ও ডিজি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর বরাবরে শুধু তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছেন।
এমনকি ভুক্তভোগীকে প্রকৃত তদন্ত প্রতিবেদনের অনুলিপিও প্রদান করছেন না। ফলে বরুন রঞ্জন দেব এর চাকরিতে পুনর্বহাল এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। করণিক বরুন রঞ্জন দেব বিষয়টি জেলা প্রশাসক মহোদয়কে লিখিতভাবে অবহিত করে প্রকৃত তদন্ত প্রতিবেদনের অনুলিপির জন্য বিগত ০৮/১২/২০২৫ খ্রি. তারিখে আবেদন করেছেন। কিন্তু প্রায় একমাস অতিবাহিত কোন সুরাহা হচ্ছে না। ফলে তিনি চরমভাবে হতাশ ও মানসিক মনোবল হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
এ বিষয়ে এলাকাবাসী ও বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্মচারী ঐক্য ফেডারেশন কেন্দ্রীয় কমিটির প্রত্যাশা মহামান্য উচ্চ আদালতের রায় যথাযথভাবে কার্যকরের লক্ষ্যে বরুন রঞ্জন দেবকে চাকরিতে স্বপদে দ্রুত পুনর্বহাল করা হোক। এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাধবপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক করণিক বরুন রঞ্জন দেব বলেন, বিগত ২০০৫ সনে বিধি মোতাবেক নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে কর্মরত ও এমপিও-ভুক্ত বিদ্যমান থাকা অবস্থায় অত্র বিদ্যালয়ের কয়েকজন প্রতিহিংসা পরায়ন কয়েকজন শিক্ষক পরস্পর যোগসাজশে, সুপরিকল্পিতভাবে ও বিধিবহির্ভূতভাবে বিগত ০১/০৫/২০০৯ইং মিথ্যা অপবাদে চাকরিচ্যুত করেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন দপ্তরে ন্যায় বিচার চেয়ে আবেদন করি।
রিপন আহমদ, মৌলভীবাজার










