চার বছর পর ঐক্যের পথে খুলনা বিএনপি, মঞ্জুর পক্ষে এক হচ্ছেন সব নেতা

নজরুল ইসলাম । ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ চার বছর পর খুলনা মহানগর বিএনপিতে বিভেদের বরফ গলতে শুরু করেছে। দলের সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জুর অনুসারী নেতারা আবার দলীয় কার্যালয়ে এসে বর্তমান কমিটির নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন। বৈঠকে খুলনা-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জুর নির্বাচন পরিচালনার জন্য একটি সমন্বিত কমিটি গঠন করা হয়, যেখানে উভয় পক্ষের নেতাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সামনে আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে সব ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেন নেতারা।

দীর্ঘদিন পর দুই পক্ষের নেতাদের এক টেবিলে বসতে দেখে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তারা জানান, খুলনা মহানগর বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিভক্তি বহুদিনের। ২০২১ সালে এই বিভেদ আরও প্রকট হয়। ওই বছরের ৯ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে নজরুল ইসলাম মঞ্জুর নেতৃত্বাধীন মহানগর বিএনপির কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়। এরপর শফিকুল আলম মনাকে আহ্বায়ক ও শফিকুল আলম তুহিনকে সদস্য সচিব করে নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। এর প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেন মঞ্জু, যার ফলে তাঁর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক পদ স্থগিত করা হয়। এরপর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে কার্যত যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।

গত চার বছর ধরে বিএনপির কেন্দ্রীয় কর্মসূচিগুলোও আলাদাভাবে পালন করে আসছিল দুই পক্ষ। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে আসার পর খুলনা-২ আসনের মনোনয়নকে ঘিরে বিভক্তি আরও গভীর হয়। নজরুল ইসলাম মঞ্জু, শফিকুল আলম মনা ও শফিকুল আলম তুহিন—তিনজনই দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশা করেন। শেষ পর্যন্ত বিএনপি ধানের শীষ প্রতীক তুলে দেয় নজরুল ইসলাম মঞ্জুর হাতে। এতে অসন্তুষ্ট হয়ে মহানগর বিএনপির বর্তমান নেতারা বিদ্রোহী অবস্থান নেন।

পরিস্থিতি সামাল দিতে বিএনপির কেন্দ্রীয় ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুলের মধ্যস্থতায় একাধিক দফা বৈঠক হয়। এক পর্যায়ে নির্বাচনের স্বার্থে সবাই একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছান নেতারা।

এরই ধারাবাহিকতায় গত শুক্রবার মাগরিবের নামাজের পর খুলনার কেডি ঘোষ রোডে অবস্থিত মহানগর বিএনপির কার্যালয়ে যান মঞ্জুর অনুসারী নেতারা। তাদের নেতৃত্ব দেন সাবেক মহানগর সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সিটি মেয়র মনিরুজ্জামান মনি। তাঁর সঙ্গে ছিলেন সাবেক উপদেষ্টা সেকেন্দার জাফরুল্লাহ খান সাচ্চু, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মাহবুব কায়সার, সদর থানার সাবেক সাধারণ সম্পাদক আরিফুজ্জামান অপু এবং সোনাডাঙ্গা থানার সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মুরাদ। রাত ৯টা পর্যন্ত বৈঠক চলে।

খুলনা-২ আসনের নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠনের লক্ষ্যে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন মহানগর বিএনপির সভাপতি শফিকুল আলম মনা। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মনিরুজ্জামান মনি। সভায় শফিকুল আলম মনাকে আহ্বায়ক, সেকেন্দার জাফরুল্লাহ খান সাচ্চু ও শফিকুল আলম তুহিনকে সমন্বয়ক করে ১০১ সদস্যের নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়। একই সঙ্গে ওয়ার্ড ও থানা পর্যায়েও উভয় পক্ষের নেতাদের নিয়ে কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এ বিষয়ে মনিরুজ্জামান মনি বলেন, ২০২১ সালের পর এই প্রথম তিনি দলীয় কার্যালয়ে এসেছেন এবং সবাই বিষয়টি ইতিবাচকভাবেই গ্রহণ করেছে। তিনি জানান, ভবিষ্যতে নিয়মিত যৌথ বৈঠক হবে। মহানগর বিএনপির সভাপতি শফিকুল আলম মনা বলেন, বড় দলে সাময়িক মনোমালিন্য স্বাভাবিক, তবে নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীকে বিজয়ী করতে সবাই একসঙ্গে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

খুলনা-২ আসনের বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, অতীতের ভুল বোঝাবুঝি পেছনে ফেলে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনের মাঠে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং দলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীর প্রতি তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

আফরিনা সুলতানা/