পঞ্চগড়ে জেঁকে বসেছে হাড়কাঁপানো শীত। জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ। ঘন কুয়াশা আর উত্তর দিক থেকে আসা হিমেল বাতাসে স্থবির হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক জনজীবন। বিশেষ করে খেটে খাওয়া দিনমজুর, শিশু ও বয়স্করা তীব্র ঠান্ডায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
আজ রোববার (১১ জানুয়ারি) ভোর ৬টায় দেশের উত্তর জনপদের জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ১০০ শতাংশ এবং বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার।
তাপমাত্রার ওঠানামা: তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক দিন ধরেই এই জেলায় তাপমাত্রা ওঠানামা করছে। এর আগে শনিবার সকালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৮ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল গত শুক্রবার, ৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। টানা কয়েক দিন ধরে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা এই জেলাতেই বিরাজ করছে।
বিপর্যস্ত জনজীবন: সরেজমিনে দেখা গেছে, কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়েছে গ্রাম ও শহরের জনপদ। সকাল গড়িয়ে দুপুর হলেও সূর্যের দেখা মিলছে না। মাঝেমধ্যে রোদের দেখা মিললেও হিমেল বাতাসের কারণে তাতে কাঙ্ক্ষিত উষ্ণতা নেই। ঘন কুয়াশার কারণে দৃষ্টিসীমা কমে আসায় মহাসড়কে হেডলাইট জ্বালিয়ে ধীরগতিতে যানবাহন চলাচল করতে দেখা গেছে।
শহরের একজন রিকশাচালক জানান, “সকালে ঠান্ডার চোটে হাত-পা অবশ হয়ে আসে, রিকশা চালানো খুব মুশকিল হয়ে পড়েছে। পেটের দায়ে বের হলেও রাস্তায় মানুষজন কম।”
আবহাওয়ার পূর্বাভাস: তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় বলেন, “টানা কয়েক দিন ধরে এ জেলায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বিরাজ করছে। আজ জেলায় মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। আগামী কয়েক দিন এই আবহাওয়া পরিস্থিতি একই রকম থাকতে পারে।”
এদিকে শীতজনিত কারণে জেলা ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে সর্দি, কাশি ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে শীতবস্ত্র বিতরণের দাবি জানিয়েছেন শীতার্ত মানুষ।
–লামিয়া আক্তার










