গাজার জন্য ট্রাম্প প্রস্তাবিত বাহিনীতে থাকতে আগ্রহী বাংলাদেশ, ওয়াশিংটনকে জানালো ঢাকা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ঢাকা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার জন্য যে ‘আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী’ (International Stabilization Force – ISF) গঠনের পরিকল্পনা করেছেন, তার অংশ হতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। জবাবে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তারাও এই ‘গুরুত্বপূর্ণ’ বিষয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে একযোগে কাজ করতে আগ্রহী।

সম্প্রতি ওয়াশিংটনে মার্কিন রাজনীতি বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি অব স্টেট আলিসন হুকার ও সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরের সঙ্গে এক বৈঠকে সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান বাংলাদেশের এই আগ্রহের কথা জানান।

কেন এই আগ্রহ এবং এর প্রেক্ষাপট কী?
ইসরায়েলের ধারাবাহিক অভিযানে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া গাজা উপত্যকায় নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে (অস্ত্র জমা নেওয়া থেকে শুরু করে সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করা পর্যন্ত) এই আন্তর্জাতিক বাহিনী গঠনের প্রস্তাব দেয় যুক্তরাষ্ট্র, যা গত নভেম্বরে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে গৃহীত হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের এই আগ্রহ প্রদর্শনের পেছনে একাধিক ভূ-রাজনৈতিক ও দ্বিপাক্ষিক কারণ রয়েছে।

সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবির বলেন, “বাংলাদেশ সাধারণত জাতিসংঘের আওতাভুক্ত শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অংশ নেয়। ধারণা করা হচ্ছে, এই বাহিনীও জাতিসংঘের অনুমোদন সাপেক্ষেই গঠিত হবে। তাই বাংলাদেশ হয়তো আগে থেকেই ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার একটি ইঙ্গিত দিয়ে রাখলো।”

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক সাহাব এনাম খান মনে করেন, “এই বাহিনীতে যুক্ত হওয়ায় বাংলাদেশের জন্য ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি নেই। বরং এলডিসি থেকে উত্তরণ, বাণিজ্য চুক্তি এবং রোহিঙ্গা ইস্যুর মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা বাংলাদেশের জন্য অপরিহার্য। তাই তাদের সঙ্গে একযোগে কাজ করাটা এই মুহূর্তে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।”

ওয়াশিংটন সফরে নিরাপত্তা উপদেষ্টার আলোচনা
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে, খলিলুর রহমানের ওয়াশিংটন সফরে গাজার বাইরেও রোহিঙ্গা সংকট, বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এসময় তিনি বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের জন্য ভিসা বন্ড থেকে অব্যাহতি দেওয়ার অনুরোধ করেন।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি যেসব দেশের জন্য ভিসা বন্ড বাধ্যতামূলক করেছে, তার মধ্যে বাংলাদেশও রয়েছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৫ হাজারের বেশি অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসীকে ফেরত পাঠানো এবং দুই দেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর জন্যও ঢাকার ওপর চাপ রয়েছে।

অনেকের ধারণা, এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই অন্তর্বর্তী সরকার ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করার চেষ্টার অংশ হিসেবে গাজা নিয়ে ট্রাম্পের পরিকল্পনায় শামিল হওয়ার আগ্রহ দেখাচ্ছে।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
এরই মধ্যে পাকিস্তানও এই বাহিনীতে সৈন্য দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তবে বাহিনীটির ম্যান্ডেট ও কাজের ধরন চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না বলে জানিয়েছে দেশটি। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, “অনেক দেশ” এই বাহিনীতে অংশ নিতে আগ্রহ দেখিয়েছে এবং এমন দেশকেই অন্তর্ভুক্ত করা হবে যাদের ওপর ইসরায়েলের আস্থা রয়েছে।

সব মিলিয়ে, বাংলাদেশের এই আগ্রহ আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে একটি নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে এই বাহিনীর গঠন প্রক্রিয়া ও চূড়ান্ত রূপ কী হবে, তার ওপরই নির্ভর করছে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের ভবিষ্যৎ।