নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের প্রার্থী মনির হোসেন কাশেমীর নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন, ব্যবস্থা নেয়নি নির্বাচন কমিশন

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা চালাতে গিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে অনেক প্রার্থী নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন। যারা নির্বাচনী প্রচারণায় আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন তাদের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশন তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিচ্ছে- এমনটাই দেখা গেছে বিভিন্ন সংসদীয় আসন এলাকায়।

কিন্তু নারায়ণগঞ্জে এর ব্যক্তিক্রম দেখা যাচ্ছে। নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী মনির হোসেন কাশেমী নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে চরমভাবে আচরণবিধি লঙ্ঘন করলেও তার বিরুদ্ধে আইনগত কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেনা নির্বাচন কমিশন। বিষয় অনেকের মধ্যে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আচরণ বিধি অনুযায়ী নির্বাচনের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ঘোষনা এবং প্রতীক বরাদ্ধ না করা পর্যন্ত কোন প্রার্থী নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে পারেন না। কিন্তু নারায়ণগঞ্জ – ৪ আসনের একজন প্রার্থী মনির হোসেন কাশেমী এ নিয়ম না মেনেই নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করে দিয়েছেন। তিনি বিভিন্ন স্থানে তার নির্বাচনী ব্যনার টানিয়েছেন। এছাড়াও তার নামে এখনো কোন প্রতীক বরাদ্ধ করা হয়নি। কিন্তু তিনি তার নির্বাচনী প্রতীক খেজুর গাছ প্রতীক দিয়ে বিভিন্ন স্থানে ব্যনার টানিয়েছেন।

মনির হোসেন কাশেমী তার নির্বাচনী আসন নারায়ণগঞ্জ – ৪ এলাকা ফতুল্লার শিবু মার্কেট এলাকায় একাধিক ব্যানার টানিয়েছেন। শুক্রবার রাতে কাশেমীর নির্বাচন প্রচারণার ব্যানার টানানোর খবর পেয়ে এই প্রতিবেদক সরজমিনে শিবু মার্কেট এলাকায় গিয়ে ঘটনার সত্যতা পান। শিবু মার্কেট এলাকায় একটি বিশাল আকারের নির্বাচনী ব্যাপার শোভা পচ্ছে।

এলাকার বেশ কয়েকজন ভোটার এই প্রতিবেদককে জানান, তারা গত কয়েকদিন ধরেই মনির হোসেন কাশেমীর নির্বাচনী প্রচারণার এমন ব্যানার এলকার বিভিন্ন পাড়ায় টানানো হয়েছে। সেসব ব্যানারে একদিকে মনির হোসেন কাশেমীর ছবি ব্যবহার করা হয়েছে, অন্য দিকে তার নির্বাচনী প্রতীক হিসেবে ‘খেজুর গাছ’ প্রতীকের ছবি ব্যবহার করা হয়েছে।

মনির হোসেন কাশেমী এভাবে নির্বাচনী ব্যনার টানিয়ে একদিকে নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গ করেছেন, অন্যদিকে তার বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশন কোন আইনগত ব্যবস্থা না নেয়ায় নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অনেক সাধারণ ভোটার প্রশ্ন তুলে বলছেন, মনির হোসেন কাশেমীর ব্যাপারে কি নির্বাচনী কমিশনের বিশেষ কোন দুর্বলতা আছে। তা না হলে কাশেমীর বিষয় নিয়ে কেন কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেনা।

মনির হোসেন কাশেমীর এভাবে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়টি নিয়ে নারায়ণগঞ্জ- ৪ আসনের অন্য প্রার্থীরাও প্রশ্ন তুলেছেন। এদের মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর জোটের প্রার্থী এনসিপির এড. আব্দুল্লাহ আল আমিনসহ স্বতন্ত্র একাধিক প্রার্থী তারাও বুঝতে পারছেন না- কি কারনে মনির হোসেন কাশেমী নির্বাচনী আচরণ বিধি লঙ্ঘন করলেও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছেনা কেনো?

মাহমুদ কাওসার, নারায়ণগঞ্জ