আবারও ইউক্রেনে হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল রাশিয়া

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে মার্কিন বিশেষ বাহিনীর হাতে আটক এবং আটলান্টিক মহাসাগরে রাশিয়ার পতাকাবাহী তেল ট্যাঙ্কার জব্দের ঘটনায় বিশ্বরাজনীতিতে এক চরম উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এই উত্তেজনার মধ্যেই শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) ইউক্রেনের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর লভিভ লক্ষ্য করে দ্বিতীয়বারের মতো বিধ্বংসী হাইপারসনিক ‘ওরেশনিক’ ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে মস্কো।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা এই হামলাকে কেবল ইউক্রেন যুদ্ধ নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক ‘আগ্রাসী’ পদক্ষেপগুলোর বিরুদ্ধে ভ্লাদিমির পুতিনের এক কঠোর ‘কৌশলগত বার্তা’ হিসেবে দেখছেন।

চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি ভোরে মার্কিন বিশেষ বাহিনী ‘ডেল্টা ফোর্স’ কারাকাসে এক দুঃসাহসিক অভিযান চালিয়ে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করে নিউইয়র্কে নিয়ে যায়। ট্রাম্প প্রশাসন মাদুরোর বিরুদ্ধে ‘নারকো-টেররিজম’ বা মাদক-সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ এনেছে।

এর রেশ কাটতে না কাটতেই গত বুধবার (৭ জানুয়ারি) আটলান্টিক মহাসাগরে রাশিয়ার পতাকাবাহী তেল ট্যাঙ্কার ‘মারিনেরা’ (পূর্বনাম বেলা-১) জব্দ করে মার্কিন কোস্ট গার্ড। ভেনেজুয়েলার ওপর আরোপিত মার্কিন অবরোধ অমান্য করে তেল পরিবহনের অভিযোগে দুই সপ্তাহের দীর্ঘ ধাওয়া শেষে জাহাজটি নিয়ন্ত্রণে নেয় যুক্তরাষ্ট্র। এই অভিযানের সময় কাছাকাছি রুশ সাবমেরিন ও যুদ্ধজাহাজ থাকলেও মস্কো সরাসরি কোনো প্রতিরোধ গড়ে তোলেনি, যা অনেককেই অবাক করেছে।

মস্কোর সেই আপাত ‘নীরবতা’র অবসান ঘটে শুক্রবার রাতে। শব্দের গতির ১১ গুণ (ঘণ্টায় প্রায় ১৩ হাজার কিলোমিটার) গতিসম্পন্ন ওরেশনিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে লভিভের একটি বিশাল প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্র ও ড্রোন উৎপাদন কেন্দ্রে আঘাত হানে রুশ বাহিনী। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, গত ডিসেম্বরে পুতিনের বালদাই বাসভবনে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার জবাব এটি। তবে পর্যবেক্ষকদের মতে, এটি আসলে আটলান্টিকে মার্কিন দাপটের বিপরীতে রাশিয়ার শক্তির প্রদর্শনী।

রুশ হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইউক্রেনও রাশিয়ার সীমান্ত অঞ্চল বেলগোরোদে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এর ফলে অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র লাচ থার্মাল পাওয়ার প্লান্ট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অন্তত ৫ লাখ ৫৬ হাজার মানুষ বিদ্যুৎ ও পানিহীন হয়ে পড়েছে। কনকনে শীতের মধ্যে এই বিদ্যুৎ বিপর্যয় সাধারণ মানুষের জীবনকে সংকটাপন্ন করে তুলেছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের মতে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্র যে ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ এবং শক্তিনির্ভর বিশ্বব্যবস্থা কায়েম করতে চাইছে, পুতিন সেখানে অত্যন্ত সতর্ক চাল চালছেন। ভেনেজুয়েলা ইস্যুতে সরাসরি মার্কিন বাহিনীর মুখোমুখি না হয়ে তিনি ইউক্রেনে হাইপারসনিক অস্ত্রের ব্যবহার বাড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোকে চাপের মুখে রাখছেন।

সোর্স- রয়টার্স

এম. এইচ. মামুন