পৌষের শেষলগ্নে এসে জেঁকে বসেছে শীত। উত্তরের হিমেল হাওয়া আর ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়েছে জনপদ। দেশের অন্তত ২০টি জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এই শৈত্যপ্রবাহ সহজে কাটছে না; বরং চলতি মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এটি অব্যাহত থাকতে পারে।
সর্বনিম্ন তাপমাত্রা পঞ্চগড়ে: গতকাল শুক্রবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায়, ৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে বুধবার নওগাঁর বদলগাছীতে এই মৌসুমের সর্বনিম্ন ৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল।
শৈত্যপ্রবাহের বিস্তৃতি: আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, নরসিংদী, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া জেলাসহ রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের ১৬টি জেলাসহ মোট ২০টি অঞ্চলে বর্তমানে শৈত্যপ্রবাহ চলছে। চুয়াডাঙ্গা ও পাবনায় তাপমাত্রা ৮.৫, কুড়িগ্রামে ৯ এবং সিরাজগঞ্জে ৯.১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে এসেছে। জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক জানিয়েছেন, আগামী দুদিন পর তাপমাত্রা কিছুটা বাড়লেও পরে তা আবারও কমতে শুরু করবে এবং নতুন নতুন এলাকা শৈত্যপ্রবাহের আওতায় আসতে পারে।
কুয়াশা ও নিম্নচাপের প্রভাব: আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী বুধবার পর্যন্ত দেশের নদী অববাহিকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা এবং অন্যত্র হালকা কুয়াশা থাকতে পারে। এদিকে শ্রীলঙ্কার উপকূলে একটি নিম্নচাপের প্রভাবে বাতাসে উষ্ণতা থাকায় কিছু কিছু অঞ্চলে কুয়াশা কাটলেও ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগসহ কিশোরগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও ফেনীতে কুয়াশার দাপট কমেনি।
জনজীবনে দুর্ভোগ: বিশেষ করে উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে শীতের তীব্রতা চরম আকার ধারণ করেছে। ঘন কুয়াশার কারণে সড়কগুলোতে হেডলাইট জ্বালিয়ে ধীরগতিতে যানবাহন চলাচল করছে। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের দিনমজুর ও খেটে খাওয়া মানুষ।
বোদা উপজেলার মন্নাপাড়া এলাকার দিনমজুর মতিয়ার বলেন, “এত শীতে হাত-পা অবশ হয়ে যায়, তবুও কাজ না করলে সংসার চলে না।” ভ্যানচালক ময়নুল জানান, তীব্র কুয়াশায় যাত্রী পাওয়া যাচ্ছে না, ফলে আয়ও কমে গেছে। অনেক এলাকায় খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন মানুষ।
–লামিয়া আক্তার










