সুস্মিতা সেন থেকে শুরু করে রাবিনা ট্যান্ডন, বলিউডে এমন অনেক অভিনেত্রী আছেন, যারা বিয়ের আগে সন্তান দত্তক নিয়েছিলেন। অবিবাহিত অবস্থাতেই মা হয়েছেন তারা। উদাহরণস্বরূপ, রাবিনা ২১ বছর বয়সে সন্তান দত্তক নিয়েছিলেন, আর সুস্মিতা সেন ২৪ বছর বয়সে। ঠিক তেমনই দক্ষিণ ভারতের এক সুন্দরী অভিনেত্রী শ্রীলীলা তিন সন্তানের মা।
যদিও তার সন্তানরা এখন অভিনেত্রীর সঙ্গে থাকে না। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে শ্রীলীলা তার দত্তক নেওয়া সন্তানদের প্রসঙ্গে মুখ খুলেছেন। জানা যায়, ২০২২ সালে মাত্র ২১ বছর বয়সে শ্রীলীলা দুটি বিশেষভাবে সক্ষম সন্তান, গুরু এবং শোভিতাকে দত্তক নিয়েছিলেন। এরপর ২০২৫ সালে আরও একটি কন্যাসন্তানকে দত্তক নেন তিনি।
শ্রীলীলা সাক্ষাৎকারে বলেন, “আমি ওদের দেখলে এখনও ভাষা হারিয়ে যাই। এবং যখন এই বিষয়ে কথা বলি তখন খানিকটা ঘাবড়েও যাই। কিন্তু এখন সবকিছু ঠিক আছে।” তবে তিনি নিজেকে মা হিসেবে অভিহিত করেননি। শ্রীলীলা বলেন, “কিন্তু আমি মা নই। কারণ মা হওয়া সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়।”
অভিনেত্রী আরও জানান, তার সন্তান দত্তকের পেছনে মূল প্রেক্ষাপট কী ছিল। তিনি বলেন, “কন্নড় চলচ্চিত্র জগতে আমার কেরিয়ারের শুরুতে আমি ‘কিস’ নামের একটি ছবি করেছিলাম, যা ২০১৯ সালে মুক্তি পায়। পরিচালক সেই সময় আমাকে একটি আশ্রমে নিয়ে গিয়েছিলেন। আমার বাচ্চারা সেখানেই থাকে। আমি ওদের সঙ্গে ফোনে কথা বলি এবং প্রায়ই দেখা করি। বিষয়টি দীর্ঘদিন গোপনে রেখেছিলাম। তবে সংস্থাটি চেয়েছিল আমি এই তথ্য শেয়ার করি, যাতে আরও বেশি মানুষ সন্তান দত্তক নিতে অনুপ্রাণিত হয়। আমি এর জন্য কৃতিত্ব নিতে চাই না, তবে চাই মানুষ একটু ভাবতে শুরু করুক।”
শ্রীলীলার জীবনের অন্য দিকও সমান চমকপ্রদ। ২০১৭ সালে তিনি তেলুগু ছবি ‘চিত্রাঙ্গদা’ দিয়ে অভিনয় জগতে পা রাখেন। পাশাপাশি তিনি ভরতনাট্যেও দক্ষ। আসলে এক সময়ে ডাক্তার হওয়া তাঁর লক্ষ্য ছিল। এমবিবিএস ডিগ্রি থাকা সত্ত্বেও ভাগ্যের ফেরে তিনি অভিনয় জগতে পা রাখেন। শিল্পী হিসেবে তাঁর কেরিয়ার এবং মানবিক কর্মকাণ্ড দুটোই সমানভাবে প্রশংসনীয়।
শ্রীলীলার এই উদ্যোগ শুধুই নিজের সন্তানের ভালোবাসা নয়, বরং সমাজের জন্য একটি উদাহরণ। তিনি দেখিয়েছেন, দত্তক গ্রহণের মাধ্যমে কিভাবে একজন নারী নিজের জীবনকে নতুন অর্থ এবং দায়িত্ব দিয়ে সাজাতে পারে। অভিনেত্রী চান, তার গল্প আরও মানুষকে অনুপ্রাণিত করুক এবং সমাজে দত্তকের বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি পেতে সাহায্য করুক।
-বিথী রানী মণ্ডল









