পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে বড় পদক্ষেপ

শেয়ারবাজারের মৌলভিত্তি শক্তিশালী করতে ইউনিলিভার, নেসলে ও গ্যাস ফিল্ডসের মতো লাভজনক রাষ্ট্রীয় ও বহুজাতিক ১০টি কোম্পানিকে পুঁজিবাজারে আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। গত বুধবার অর্থ মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে সংশ্লিষ্ট ১০টি প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীরা অংশ নেন। বৈঠকে বাণিজ্য উপদেষ্টা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা, শিল্প উপদেষ্টা এবং বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তালিকায় থাকা ১০ প্রতিষ্ঠান প্রাথমিকভাবে যেসব কোম্পানিকে বাজারে আনার আলোচনা চলছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে ৫টি বহুজাতিক ও ৫টি সরকারি প্রতিষ্ঠান।
বহুজাতিক: ইউনিলিভার, নেসলে, নোভার্টিস, সিনজেন্টা ও সাইনোভিয়া বাংলাদেশ।
সরকারি: কর্ণফুলী গ্যাস কোম্পানি, কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার (কাফকো), নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন, পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানি ও সিলেট গ্যাস ফিল্ডস।
অর্থ উপদেষ্টার বক্তব্য বৈঠক শেষে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, “শেয়ারবাজার এখন আইনের মধ্যে এসেছে। এখন বাজারের গভীরতা বাড়ানো এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরানো জরুরি। এ জন্য মৌলভিত্তি সম্পন্ন শক্তিশালী সরকারি ও বহুজাতিক কোম্পানির শেয়ার অফলোড করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বহুজাতিক কোম্পানিগুলো জানিয়েছে, তাদের পরিচালনা পর্ষদের সভা ছাড়া চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়। তবে সরকার এ বিষয়ে নীতিগত সম্মতি দিয়েছে।”
বর্তমান সরকারের মেয়াদে তালিকাভুক্তি সম্ভব কি না— এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, বিষয়টি জটিল এবং কোম্পানি আইন মেনে করতে হয়, তবে সরকার দ্রুত প্রক্রিয়া শুরু করার অনুরোধ জানিয়েছে।
বিশেষজ্ঞ ও কর্মকর্তাদের মত ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, “সরকার এটি জনস্বার্থে করছে। নেসলে যদি বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জে থাকতে পারে, তবে বাংলাদেশে সমস্যা কোথায়? ইউনিলিভার ইন্ডিয়া বা পাকিস্তানে তালিকাভুক্ত থাকলে এখানেও থাকা উচিত।” তিনি আরও বলেন, প্রয়োজনে তালিকাভুক্তির জন্য কোম্পানিগুলোকে কর ছাড় দেওয়া যেতে পারে, আর রাজি না হলে কর বাড়ানোর বিষয়টিও ভাবা উচিত।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো সরাসরি তালিকাভুক্তিতে প্রাথমিক সম্মতি দিয়েছে। তবে দীর্ঘসূত্রতা এড়াতে দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।