নিজেদের প্রস্তাবিত ‘লটারি’ পদ্ধতিতে নিয়োগ করা এসপিদেরও সরাতে চায় জামায়াত

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মাঠ প্রশাসনে বড় ধরনের রদবদলের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বিশেষ করে জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপারদের (এসপি) ‘দলীয়’ আখ্যা দিয়ে তাঁদের দ্রুত সরানোর দাবি তুলেছে দলটি। উল্লেখ্য, এর আগে জামায়াতের প্রস্তাব মেনেই লটারির মাধ্যমে এসপি নিয়োগ দেওয়া হলেও এখন তাঁদের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে তারা।

বুধবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে এক বৈঠক শেষে জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের সাংবাদিকদের এসব কথা জানান।

গত ১১ নভেম্বর নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সংলাপে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার লটারির মাধ্যমে মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তা বদলির প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তাঁর যুক্তি ছিল, লটারিতে যাঁর যেখানে ‘তকদির’ আছে তিনি সেখানে যাবেন, ফলে কোনো পক্ষপাতের সুযোগ থাকবে না। অন্তর্বর্তী সরকার সেই প্রস্তাব আমলে নিয়ে বিভিন্ন জেলায় লটারির মাধ্যমে এসপি নিয়োগ দিয়েছিল।

তবে গতকালের বৈঠকে জামায়াত নেতারা দাবি করেন, লটারিতে নিয়োগ পেলেও মাঠ পর্যায়ের অনেক কর্মকর্তা এখনো পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করছেন। বিশেষ করে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে বিভিন্ন জেলায় ভিন্ন ভিন্ন মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁদের। বৈঠক শেষে সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের গণমাধ্যমকে বলেন, “অনেক জেলায় ‘দলীয়’ ডিসি ও এসপি বহাল রয়েছেন, যাঁদের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। তাঁদের দ্রুত অপসারণ করে নিরপেক্ষ কর্মকর্তাদের নিয়োগ দিতে হবে। ভোটের বাকি মাত্র এক মাস হলেও এখনো সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরি হয়নি। একটি নির্দিষ্ট দলকে অতিরিক্ত প্রচার-প্রচারণার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। প্রার্থীদের নিরাপত্তা দেওয়ার ক্ষেত্রেও বৈষম্য করা হচ্ছে। কোনো কোনো ব্যক্তি বিশেষ প্রটোকল পাচ্ছেন, আবার সমপর্যায়ের অন্য নেতারা বঞ্চিত হচ্ছেন।”

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী এই নির্বাচনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আখ্যা দিয়ে জামায়াতের নায়েবে আমির হুঁশিয়ারি দেন যে, “এই নির্বাচন যদি কোনোভাবে ‘অ্যারেঞ্জড’ বা সাজানো নির্বাচন হয়, তবে দেশ অস্তিত্ব সংকটে পড়বে।” তিনি নির্বাচন কমিশনকে আরও দৃঢ় হওয়ার এবং নিজেদের নিরপেক্ষতা প্রমাণের আহ্বান জানান।

আবদুল্লাহ তাহের আরও জানান, প্রচার-প্রচারণায় বৈষম্যের বিষয়টি তিনি তথ্য উপদেষ্টাকে টেলিফোনে জানিয়েছেন। তাঁর ভাষ্যমতে, উপদেষ্টা বিষয়টি স্বীকার করলেও নিজের সীমাবদ্ধতা বা অসহায়ত্বের কথা প্রকাশ করেছেন। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, জামায়াতের এই দাবিগুলো পর্যালোচনা করে দেখা হবে। বিশেষ করে রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে ডিসিদের ভূমিকা যেন প্রশ্নবিদ্ধ না হয়, সেদিকে নজর রাখার আশ্বাস দিয়েছে কমিশন।

এম. এইচ. মামুন