গ্রাহকের অর্থ আত্মসাৎ ও চেক জালিয়াতির একটি মামলায় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোহাম্মদ রাসেলকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আজ বুধবার (৭ জানুয়ারি) ঘোষিত এই রায়ে রাসেলকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। তবে একই মামলার অপর আসামি ইভ্যালির চেয়ারম্যান ও রাসেলের স্ত্রী শামীমা নাসরিনকে অভিযোগ থেকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।
মোহাম্মদ রাসেল ও শামীমা নাসরিন বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। গত বছরের শেষ দিক থেকে তারা আত্মগোপনে চলে যান। একের পর এক মামলার রায় ও সাজা ঘোষণা হতে থাকায় তারা আবার গা ঢাকা দিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আদালত ও মামলার তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত দেড় বছরে পৃথক সাতটি মামলায় রাসেলের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হয়েছে। পৃথক ছয়টি মামলায় এ পর্যন্ত তাদের মোট ১৭ বছরের কারাদণ্ড এবং ২ লাখ ৭ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
আজকের রায়: ১ বছরের কারাদণ্ড (মোহাম্মদ রাসেল)।
২ জুন ২০২৪: চট্টগ্রামে চেক জালিয়াতি মামলায় ১ বছরের সাজা।
১২ নভেম্বর ২০২৪: একটি মামলায় ৫ বছরের কারাদণ্ড।
১৮ সেপ্টেম্বর ও ১৩ এপ্রিল ২০২৪: পৃথক দুটি মামলায় ৩ বছর করে সাজা।
২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে র্যাবের অভিযানে এই দম্পতি প্রথমবার গ্রেপ্তার হওয়ার পর ইভ্যালির বিতর্কিত কার্যক্রম প্রকাশ্যে আসে। পরবর্তী সময়ে ২০২২ সালে শামীমা এবং ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে রাসেল জামিনে মুক্তি পান। মুক্তি পাওয়ার পর তারা ‘ইভ্যালি ২.০’ নামে নতুন করে ব্যবসা শুরু করে গ্রাহকদের দেনা পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দিলেও কার্যকর কোনো সমাধান আসেনি।
বর্তমানে দেশের বিভিন্ন আদালতে এই দম্পতির বিরুদ্ধে শত শত প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের মামলা বিচারাধীন রয়েছে। লোভনীয় অফারের প্রলোভন দেখিয়ে হাজার হাজার গ্রাহকের কয়েক শ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে এই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। সর্বশেষ এই রায়ের মাধ্যমে মোহাম্মদ রাসেলের সাজার পাল্লা আরও ভারী হলো।
– লামিয়া আক্তার/










