হাঙ্গেরির বিশ্ববরেণ্য চলচ্চিত্র পরিচালক বেলা তার মারা গেছেন। তার বয়স হয়েছিল ৭০ বছর। মঙ্গলবার ইউরোপীয় চলচ্চিত্র একাডেমি (ইএফএ) এক বিবৃতিতে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। দীর্ঘদিন ধরেই বার্ধ্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি।
ইএফএ শোকবার্তায় জানিয়েছে, “আমরা এক অসাধারণ পরিচালককে হারালাম, যার জোরালো রাজনৈতিক কণ্ঠস্বর আমাদের প্রতিনিয়ত ভাবিয়েছে। তিনি শুধু সহকর্মীদের কাছেই পরম শ্রদ্ধেয় ছিলেন না, বিশ্বজুড়ে সিনেমাপ্রেমীরাও তাকে সমাদৃত করতেন।”
১৯৫৫ সালে হাঙ্গেরির পেচ শহরে জন্ম নেওয়া বেলা তার মাত্র ১৬ বছর বয়সে চলচ্চিত্র নির্মাণে পা রাখেন। বাবার দেওয়া সাধারণ একটি ক্যামেরা দিয়ে অপেশাদারভাবে কাজ শুরু করেছিলেন, কিন্তু দ্রুতই নিজের প্রতিভার ছাপ রেখে দেন। হাঙ্গেরির বিখ্যাত বেলা বালাজ স্টুডিও থেকে তিনি হাতেখড়ি নেন এবং ১৯৭৭ সালে মুক্তি পায় তাঁর প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘ফ্যামিলি নেস্ট’।
বেলা তারকে বিশ্ব চলচ্চিত্রে পরিচিত করা হয় ‘স্লো সিনেমা’ আন্দোলনের পথিকৃৎ হিসেবে। তার ছবির বৈশিষ্ট্য ছিল সাদাকালো ফ্রেম, দীর্ঘ শট, মন্থর গতি আর স্বল্প সংলাপ। ১৯৮৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘ড্যামনেশন’ ছবিটি বিশ্বজুড়ে প্রশংসা কুড়ায়। তবে ১৯৯৪ সালে নির্মিত ৭ ঘণ্টার মহাকাব্যিক চলচ্চিত্র ‘সেট্যানট্যাঙ্গো’ তাঁকে চিরস্মরণীয় করে রাখে। ৪৪০ মিনিটের এই ছবি আজও বিশ্ব চলচ্চিত্রের একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত।
২০১১ সালে ‘দ্য তুরিন হর্স’ নির্মাণের পর আনুষ্ঠানিকভাবে চলচ্চিত্র পরিচালনা থেকে অবসর ঘোষণা করেন বেলা তার। এরপরও তিনি নিভৃতে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ এবং নবীন নির্মাতাদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে চলচ্চিত্রের সাথে যুক্ত ছিলেন।
বেলা তারের শৈলী, ধৈর্য ও অসাধারণ কল্পনাশক্তি বিশ্ব সিনেমাপ্রেমীদের মনে চিরদিন ধরে স্থায়ী প্রভাব ফেলবে।
-এম ইউ এম










