যৌথবাহিনীর অভিযান ১৫ জানুয়ারির পর জোরদার হবে: ইসি সানাউল্লাহ

নির্বাচন কমিশনার (ইসি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেছেন, অপকর্ম করে কোনো গোষ্ঠী বা দল পার পাওয়ার সুযোগ পাবে না। ডেভিল হান্ট ফেজ-টু অভিযানে এরই মধ্যে দুই শতাধিক অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে এবং যৌথ বাহিনীর অভিযানকে আরও গতিশীল করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ১৫ জানুয়ারির পর থেকে অভিযান আরও জোরদার হবে।

মঙ্গলবার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে আইনশৃঙ্খলা সেলের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

ইসি সানাউল্লাহ বলেন, “সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় আনা ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে যৌথ বাহিনীর কার্যক্রমে আরও গতি আসবে। অপারেশনের পর তা গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হবে, যাতে কোনো গোষ্ঠী বা দল অপকর্ম করে পার পাওয়ার আশা না করে। কারণ অপকর্ম লোকাল পর্যায়ে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং তা জাতীয় ইস্যুতে পরিণত হবে।”

তিনি আরও বলেন, “আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই। বরং ভোটাররা ভোট দেওয়ার জন্য অপেক্ষায় আছেন। এ সময় গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, সঠিক তথ্য সঠিক সময়ে তুলে ধরা মিডিয়ার দায়িত্ব। অপতথ্য ও গুজব ছড়ানো যেমন অপরাধ, তেমনি অপতথ্য শেয়ার করাও অপরাধ—এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।”

নির্বাচন কমিশনার জানান, জুলাই অভ্যুত্থানের পর এখনো সব অস্ত্র উদ্ধার সম্ভব হয়নি। আনুমানিক ৮৫ শতাংশ অস্ত্র উদ্ধার হলেও প্রায় ১৫ শতাংশ এখনও উদ্ধার বাকি। শতভাগ উদ্ধার সম্ভব নাও হতে পারে, তবে অস্ত্রধারীদের শনাক্ত বা অস্ত্র উদ্ধার করা গেলে মানুষের মধ্যে আস্থা বাড়বে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

চট্টগ্রামের প্রসঙ্গ টেনে ইসি সানাউল্লাহ বলেন, “এখানে সংখ্যালঘুদের বসবাস রয়েছে। নির্বাচনকে ঘিরে স্বার্থান্বেষী মহল সংখ্যালঘুদের নিয়ে সহিংসতা ঘটানোর চেষ্টা করতে পারে, অতীতেও এমন নজির আছে। তাই এ বিষয়ে বিশেষ সতর্ক থাকতে হবে।” তিনি আরও বলেন, “রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও সীমান্ত এলাকায় কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। রোহিঙ্গা ক্যাম্পভিত্তিক কিছু কর্মকাণ্ড নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে, যা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।”

সভায় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ড. জিয়াউদ্দীন, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আহসান হাবিব পলাশ, জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা, পুলিশ সুপার নাজির আহমদ খানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

-এমইউএম