সৈয়দপুরে তাপমাত্রা ৯ ডিগ্রিতে: দেখা নেই সূর্যের

নীলফামারীর সৈয়দপুরে জেঁকে বসেছে হাড়কাঁপানো শীত। ঘন কুয়াশা আর হিমেল হাওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে উত্তরাঞ্চলের এই জনপদ। আজ বুধবার (৭ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টায় সৈয়দপুরে চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। সূর্যের দেখা না মেলায় দিনভর কনকনে ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে, যার ফলে চরম বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ।
সৈয়দপুর ছাড়াও নীলফামারী জেলার অন্যান্য উপজেলাগুলোতেও শীতের প্রকোপ বেড়েছে। গত দুদিন ধরে আকাশে সূর্যের দেখা না মেলায় ঘর থেকে বের হওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা জানান, গত এক সপ্তাহ তাপমাত্রা ১০ থেকে ১১ ডিগ্রির মধ্যে ওঠানামা করলেও আজ তাপমাত্রা এক ধাক্কায় ৯ ডিগ্রিতে নেমে আসায় শীতের তীব্রতা বহুগুণ বেড়ে গেছে।
শহরের ক্যান্ট পাবলিক স্কুল সংলগ্ন ফুচকা বিক্রেতা তৈমুর হোসেন আক্ষেপ করে বলেন, “গত দুদিন সূর্য ওঠেনি। এই প্রচণ্ড ঠান্ডায় মানুষ ঘর থেকেই বের হচ্ছে না, ফুচকা বিক্রি করব কার কাছে? আজ ভ্যান নিয়ে বের হয়েছি ঠিকই, কিন্তু হাত-পা ঠান্ডায় জমে যাচ্ছে।”
সামনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন থাকায় এলাকায় ভোটের প্রচারণা চলছে জমজমাটভাবে। তবে প্রার্থীদের এই প্রচারণার ভিড়ে গরীব ও অসহায় মানুষের দুঃখ শোনার কেউ নেই বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। সৈয়দপুর-রংপুর সড়কের পাশের খোয়া বিক্রেতা রশিদ বলেন, “ভোটের প্রচার চলছে ঠিকই, কিন্তু গরীব মানুষ যে শীতে মরছে তা দেখার কেউ নেই। সরকার বা কোনো প্রার্থীর পক্ষ থেকে এবার এখনো শীতবস্ত্র বা কম্বল দেওয়া হয়নি।”
সৈয়দপুর বিমানবন্দর আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লোকমান হোসেন জানান, মঙ্গলবার সকাল ৮টায় এই অঞ্চলের তাপমাত্রা ছিল ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা আজ ৯ ডিগ্রিতে নেমে এসেছে। তিনি বলেন, “গত দুই দিন সূর্যের দেখা না মেলায় এবং হিমেল হাওয়ার কারণে তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে। আগামী ৩-৪ দিনের মধ্যে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে।”
জেলায় ঘন কুয়াশার কারণে সড়কগুলোতে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। দিনের বেলাতেও হেডলাইট জ্বালিয়ে গাড়ি চলতে দেখা গেছে। স্থানীয় প্রশাসন ও বিত্তবানদের প্রতি দ্রুত শীতবস্ত্র বিতরণের আবেদন জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
– লামিয়া আক্তার/