রূপগঞ্জে ডিআইজি’র ভাতিজা পরিচয়ে সাংবাদিককে গুমের হুমকির অভিযোগ

নজরুল ইসলাম বাদল | রূপগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে পুলিশের একজন ডিআইজি’র ভাতিজা পরিচয় দিয়ে স্থানীয় এক ইউপি সদস্য দৈনিক মানবকণ্ঠের সাংবাদিককে পুলিশ দিয়ে উঠিয়ে নিয়ে গুম করার হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী সাংবাদিক রাশেদুল ইসলাম নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে রূপগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

জিডি সূত্রে জানা যায়, সাংবাদিক রাশেদুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে দৈনিক মানবকণ্ঠ পত্রিকায় কর্মরত রয়েছেন। পেশাগত দায়িত্বের অংশ হিসেবে তিনি স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের অনিয়ম, দুর্নীতি ও মাদক সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ড নিয়ে একাধিক সংবাদ প্রকাশ করেন। এসব সংবাদের জেরে তিনি বিভিন্ন সময় হুমকি ও চাপের মুখে পড়েন বলে অভিযোগ করেছেন।

রাশেদুল ইসলাম জানান, গত ২৮ ডিসেম্বর রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে ভোলাব ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য কাউসার মিয়া তার মোবাইল ফোনে কল করে নিজেকে ডিআইজি নাজমুলের ভাতিজা হিসেবে পরিচয় দেন। এ সময় তিনি অকথ্য ভাষায় গালিগাগালাজ শুরু করেন। গালমন্দে বাধা দিলে কাউসার মিয়া আরও ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের পুলিশ দিয়ে তুলে নিয়ে গুম করার হুমকি দেন বলে জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এই ঘটনার পর থেকে তিনি ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

অভিযুক্তের রাজনৈতিক অতীত ও বর্তমান
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত ইউপি সদস্য কাউসার মিয়ার বাবা আব্দুর রশিদ ভোলাব ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি ছিলেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, কাউসার মিয়া ও তার বাবা দীর্ঘদিন ধরে চারিতালুক গ্রামে প্রভাব বিস্তার করে আসছিলেন। অবৈধভাবে কৃষিজমিতে বালু ভরাট ও অবৈধ ইটভাটা নিয়ন্ত্রণের মতো নানা অনিয়মের সঙ্গে তারা জড়িত বলে স্থানীয়রা দাবি করেন। ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর কাউসার মিয়া বিএনপিতে যোগ দেন এবং এরপর থেকে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

সাংবাদিকদের নিন্দা ও পুলিশের বক্তব্য
এই ঘটনায় রূপগঞ্জে কর্মরত সাংবাদিকরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তারা হুমকিদাতার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ইউপি সদস্য কাউসার মিয়া বলেন, “আমি ডিআইজি নাজমুলের ভাতিজা পরিচয়ে কথা বলেছি, তবে কাউকে গুম করার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয়। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।”

রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সবজেল বলেন, “বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের তদন্ত শুরু হয়েছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”