হিমেল হাওয়া ও ঘন কুয়াশায় কাঁপছে টাঙ্গাইল, জনজীবন বিপর্যস্ত

মৃণাল কান্তি রায় | টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি

উত্তরের হিমেল হাওয়া ও ঘন কুয়াশার দাপটে টাঙ্গাইলে তীব্র শীতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত ভারী কুয়াশার চাদরে ঢাকা থাকছে পুরো জেলা। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষ।

টাঙ্গাইল আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২.০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যদিও এর আগের দিন সোমবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১০.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় প্রায় ৫ কিলোমিটার বেগে হিমেল বাতাস বয়ে চলায় শীতের তীব্রতা বেশি অনুভূত হচ্ছে।

জনজীবনে শীতের প্রভাব
সরেজমিনে দেখা গেছে, দিনের বেলায় সূর্যের দেখা মিললেও তাতে নেই কোনো উত্তাপ। তীব্র শীতের কারণে শহরের বড় বড় দোকানপাট ও শপিংমলগুলোতে ক্রেতার আনাগোনা কমে গেছে। অলস সময় পার করছেন ব্যবসায়ীরা। তবে চাহিদা বেড়েছে গরম কাপড়ের দোকানগুলোতে। অন্যদিকে, উষ্ণতা পেতে নিম্ন আয়ের মানুষের ভিড় জমেছে রাস্তার পাশের চায়ের দোকানগুলোতে। শহরের বিভিন্ন মোড়ে ও ফুটপাতে ছিন্নমূল ও দিনমজুরদের খড়কুটো জ্বালিয়ে আগুন পোহাতে দেখা গেছে।

স্বাস্থ্যঝুঁকি ও পৌষ সংক্রান্তির আমেজ
শীতের প্রকোপ বাড়ায় হাসপাতালগুলোতে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে সর্দি-কাশি, জ্বরসহ ঠান্ডাজনিত রোগের চাপ বাড়ছে বলে জানা গেছে। চিকিৎসকরা এই সময়ে শিশু ও বয়স্কদের বিশেষ যত্ন নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন।

প্রকৃতির এই রূপ পৌষ সংক্রান্তির আগমনী বার্তা দিচ্ছে। আর কয়েক দিন পরেই জেলাজুড়ে পালিত হবে পিঠে-পুলির উৎসব। বিশেষ করে পুরান ঢাকার মতো টাঙ্গাইলের বিভিন্ন এলাকাতেও ঘুড়ি ওড়ানো ও নানা আয়োজনে এই উৎসব উদযাপিত হয়।

আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস
টাঙ্গাইল আবহাওয়া অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বজলুর রশিদ জানান, উত্তর থেকে আসা হিমেল বাতাসের কারণে শীতের তীব্রতা বেড়েছে। তিনি বলেন, “বুধবার থেকে শীতের তীব্রতা আরও বাড়তে পারে, যা কয়েকদিন স্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।”