ঢাকা কলেজের চার শিক্ষার্থী চাঁদাবাজির অভিযোগে আটক

রাজধানীর লালবাগ থানাধীন আজিমপুর ইডেন মহিলা কলেজের ১ নম্বর গেটের সামনে চাঁদাবাজির অভিযোগে ঢাকা কলেজের চার শিক্ষার্থীকে আটক করেছে সেনাবাহিনী।

গত সোমবার রাত ৮টার দিকে আজিমপুরে অবস্থিত ৪৬ ব্রিগেড আজিমপুর আর্মি ক্যাম্পের একটি টহল দল সংশ্লিষ্ট এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে।

আটক ব্যক্তিরা হলো, ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদুর আমিনের ঘনিষ্ঠ সহচর মাসুদ রানা, নির্দেশদাতা শাফায়েত আলী রুদ্র, ঢাকা কলেজ ম্যানেজমেন্ট বিভাগের বায়েজিদ ও আবির।

জানা গেছে, ইডেন কলেজের সামনের এলাকায় ব্যবসায়ীদের কাছে চাঁদাবাজি করতে আসেন তারা। ব্যবসায়ীদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এর আগে একবার তাদের ধরে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। এরপর সোমবার অভিযোগকারী ব্যবসায়ীদের মারধর করে এবং চাঁদা চায়। এ সময় ব্যবসায়ীরা মিলে প্রতিবাদ করে। তাদের গণধোলাই দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হলে সেনাবাহিনী গিয়ে সেখান থেকে তাদের আটক করে।

ভুক্তভোগী এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘আবির ও মাসুদসহ কয়েকজন গতকাল আজিমপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় তরকারি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা নিতে আসে। বিষয়টি জানতে পেরে আমি তাদের জিজ্ঞেস করি, ‘ভাই, আপনাদের সমস্যা কী?’ জবাবে তারা বলেন, ‘আমরা নিউমার্কেট ও আজিমপুর এলাকা নিয়ন্ত্রণ করি, এটাও নিয়ন্ত্রণ করব।’

তিনি বলেন, ‘আবার তারা ইডেন কলেজের সামনে এসে আমার কাছ থেকে ১ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে সাত-আটজন মিলে আমাকে মারধর করে। মারধরের সময় পানি চাইলে তারা বলে, ‘তোকে পানি দেব না, প্রশ্রাব দেব তুই আগে টাকা দে।’

ভুক্তভোগী আরও বলেন, ‘ঘটনার সময় শাফায়েত আলী রুদ্র দলটির নেতৃত্ব দিচ্ছিল। পরে মুরাদ নামে একজন এসে তাদের ছাড়ানোর চেষ্টা করে। প্রথমে অভিযুক্তরা নিজেদের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র পরিচয় দিয়েছিল, পরে আর কোনো পরিচয় দেয়নি। তারা ঢাকা কলেজে রাজনীতি করে বলে জানা গেছে।’

এ বিষয়ে লালবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল খান বলেন, সেনাবাহিনী চারজনকে আটক করে থানায় হস্তান্তর করে। তারা সবাই ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

সুশান্ত সাহা