কুড়িগ্রামে শীতের তীব্রতায় কাঁপছে সীমান্ত জনপদ

উত্তরের সীমান্তঘেঁষা জেলা কুড়িগ্রামে জেঁকে বসেছে হাড়কাঁপানো শীত। হিমেল হাওয়ার দাপটে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এ অঞ্চলের স্বাভাবিক জনজীবন। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) ভোরে জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। ঘন কুয়াশা না থাকলেও দিনভর মেঘলা আকাশে সূর্যের দেখা না মেলায় শীতের তীব্রতা বহুগুণ বেড়ে গেছে।
কুড়িগ্রামের রাজারহাট আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার জানান, তাপমাত্রা কমে আসায় শীতের প্রকোপ বেড়েছে। দিনের অধিকাংশ সময় সূর্য মেঘে ঢাকা থাকছে, ফলে উত্তাপ মিলছে না। বিশেষ করে মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত চারদিক কুয়াশায় ঢাকা থাকছে এবং সন্ধ্যা নামলেই শুরু হচ্ছে কনকনে ঠান্ডা বাতাস।
শীতের এই তীব্রতায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন কৃষি শ্রমিক ও খেটে খাওয়া মানুষ। ভোরে কাজে বের হতে গিয়ে কনকনে ঠান্ডায় জবুথবু হয়ে পড়ছেন তারা। হাড়কাঁপানো শীত নিবারণে অনেক এলাকার অসহায় ও দুস্থ মানুষকে খড়কুটো জ্বালিয়ে আগুন পোহাতে দেখা গেছে। হাড়কাঁপানো শীতের হাত থেকে বাঁচতে নিম্নবিত্ত মানুষরা ভিড় করছেন ফুটপাতের পুরনো কাপড়ের দোকানগুলোতে।
তীব্র ঠান্ডার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে শীতজনিত রোগের প্রকোপ। কুড়িগ্রামের হাসপাতালগুলোতে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। এর মধ্যে শিশু ও বয়স্কদের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে শিশুদের বাড়তি যত্ন এবং বয়স্কদের সাবধানে থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
কুড়িগ্রামের এই বিরূপ আবহাওয়ায় রবি ফসলের বিশেষ করে আলু ও বোরো বীজতলার ক্ষতির আশঙ্কাও করছেন স্থানীয় কৃষকরা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত কম্বল ও শীতবস্ত্র বিতরণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।
– লামিয়া আক্তার/