বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দুই দশক পর প্রথমবারের মতো জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ চলছে। আজ মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে ভোট গ্রহণ শুরু হয়।
গত ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও ওই দিন সকালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে নির্বাচন স্থগিত করা হয়। পরে ৬ জানুয়ারি নির্বাচনের নতুন তারিখ ধার্য করে নির্বাচন কমিশন।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ২১ বছরে জকসু নির্বাচন হচ্ছে এই প্রথম। এর আগে জগন্নাথ কলেজ থাকাকালীন ১৯৮৭ সালে অনুষ্ঠিত হয়েছিল কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচন। প্রথম জকসু নির্বাচন নিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। সংকট কাটিয়ে নতুন দিনের সম্ভাবনায় আশাবাদী তাঁরা।
এবার একজন ভোটারকে ২১টি করে ভোট দিতে হবে। ভোটগ্রহণ হচ্ছে ওএমআর ফরমে, তিন পাতার ব্যালটে। এরপর ৬টি গণনা মেশিনে কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে হবে ফলাফল গণনা। ফলাফল ঘোষণা করা হবে কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে। ভোট গণনা সরাসরি দেখানো হবে তিনটা এলইডি স্ক্রিনে।
জকসু নির্বাচন ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সতর্কতা চোখে পড়ার মতো। ভোটকেন্দ্রসহ ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোতে দায়িত্বপালন করছেন তারা। রাত থেকেই প্রবেশ ফটকে বিশেষ পাহারা বসানো হয়েছে। সেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি দায়িত্বপালন করছেন বিএনসিসি, রোভার স্কাউটস সদস্যরা। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষার্থী ও গণমাধ্যমকর্মীসহ সংশ্লিষ্টরা বিশেষ কার্ড দেখিয়ে প্রবেশ করতে পারছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক তাজাম্মুল হক বলেন, ক্যাম্পাসের নিরাপত্তার জন্য তিন স্তরের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ চলবে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে, ভোট গ্রহণের জন্য তারা সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। বেলা তিনটা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৯টি কেন্দ্রে মোট ১৭৮টি বুথে ভোট গ্রহণ চলবে।
নির্বাচন কমিশন থেকে পাওয়া তথ্যমতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় সংসদের জন্য ২১টি পদে ১৫৭ জন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র ছাত্রী হলের সংসদের ১৩টি পদে ৩৩ জনসহ মোট ৩৪টি পদের বিপরীতে ১৯০ জনকে চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
জকসু নির্বাচন কমিশনের তথ্য বলছে, নির্বাচনে মোট ভোটার ১৬ হাজার ৬৬৫ জন। এতে মোট চারটি প্যানেলে প্রার্থীরা অংশ নিচ্ছেন। সেগুলো হলো ছাত্রদল, ছাত্র অধিকার পরিষদ ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে গঠিত ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’, ইসলামী ছাত্রশিবির–সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’, বাম জোট–সমর্থিত ‘মওলানা ভাসানী ব্রিগেড’ এবং জাতীয় ছাত্রশক্তি–সমর্থিত প্যানেল ‘ঐক্যবদ্ধ জবিয়ান’।
এ ছাড়া স্বতন্ত্রভাবেও নির্বাচনে বেশ কয়েকজন প্রার্থী অংশ নিয়েছেন। নির্বাচনে ভিপি পদে লড়ছেন ১২ জন, জিএস পদে ৯ জন এবং এজিএস পদে লড়ছেন ৮ জন।
জকসু নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে বেশ কয়েকটি নির্দেশনা জারি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মো. শেখ গিয়াস উদ্দিন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়।
নির্দেশনাগুলো হলো ভোট প্রদানের জন্য শিক্ষার্থীরা কেবল বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নম্বর ফটক দিয়ে প্রবেশ করবেন, ভোট দেওয়ার পর শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ ও ৩ নম্বর ফটক দিয়ে ক্যাম্পাস থেকে প্রস্থান করবেন; শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা নির্ধারিত সময়ের আগেই কেবল ২ নম্বর ফটক দিয়ে প্রবেশ করবেন। কর্মকর্তা–কর্মচারীরা আইডি কার্ড দেখিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করবেন এবং জরুরি প্রয়োজন ব্যতীত ক্যাম্পাসের বাইরে যাবেন না।
-মামুন/









