ইরানে বিক্ষোভ ছড়িয়েছে ৭৮ শহরে, প্রাণহানি বেড়ে ২০; মার্কিন হস্তক্ষেপের হুমকি

অর্থনৈতিক সংকটকে কেন্দ্র করে ইরানে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দ্বিতীয় সপ্তাহে গড়িয়েছে এবং তা দেশের অধিকাংশ প্রদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, চলমান এই বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত অন্তত ২০ জনের প্রাণহানি হয়েছে এবং প্রায় এক হাজার জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠার মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন।

বিক্ষোভের বিস্তার ও হতাহতের সংখ্যা
মানবাধিকার সংগঠন ও স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, ইরানের ৩১টি প্রদেশের মধ্যে অন্তত ২৬টিতে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে, যা দেশটির অন্তত ৭৮টি শহরকে প্রভাবিত করেছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) জানিয়েছে, রাজধানী তেহরান, দক্ষিণের শহর শিরাজ এবং পশ্চিম ইরানের বিভিন্ন এলাকায় রাতভর বিক্ষোভ চলছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৯ জন বিক্ষোভকারী এবং একজন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৫০ জন। একই সময়ে দেশজুড়ে অন্তত ৯৯০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের হুমকি
পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। এয়ার ফোর্স ওয়ানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইরানে যদি অতীতের মতো সাধারণ মানুষ হত্যা শুরু হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র বসে থাকবে না এবং কঠোর প্রতিক্রিয়া জানাবে। এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি ইরানে সম্ভাব্য মার্কিন হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছেন।

বিক্ষোভের কারণ ও স্লোগান
গত ২৮ ডিসেম্বর ইরানের রাজধানী তেহরানে দোকানদারদের ধর্মঘটের মধ্য দিয়ে এই বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়। প্রাথমিকভাবে ভঙ্গুর অর্থনীতি ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বিরুদ্ধে এই বিক্ষোভ শুরু হলেও দ্রুতই তা সরকারবিরোধী রূপ নেয়। এইচআরএএনএ জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীরা এখন ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা এবং ইসলামি প্রজাতন্ত্রের ধর্মীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সরাসরি স্লোগান দিচ্ছেন, যা দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।