চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। যাচাই শেষে মোট ১৪৩ প্রার্থীর মধ্যে ১০২ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং ৪১ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।
গত ১ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এ যাচাই-বাছাই কার্যক্রম তিনজন রিটার্নিং কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে আসনভিত্তিকভাবে পরিচালিত হয়, যা শেষ হয় ৪ জানুয়ারি। শেষ দিনে চট্টগ্রাম নগরীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আসনের মনোনয়নপত্র যাচাই করা হয়।
রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, চট্টগ্রাম-৯ কোতোয়ালি আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. এ কে এম ফজলুল হকের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগ ওঠে। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগের আবেদন গ্রহণের প্রমাণপত্র জমা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় তার মনোনয়ন অবৈধ ঘোষণা করা হয়।
রোববার চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে চট্টগ্রাম-৮, ৯ ও ১০ আসনের এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে চট্টগ্রাম-১৩ থেকে ১৬ আসনের মনোনয়নপত্র যাচাই করা হয়। এই সাতটি আসনে মোট ৬২ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র পরীক্ষা করে ৪৬ জনকে বৈধ এবং ১৬ জনকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়।
চট্টগ্রামের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন চৌধুরী জানান, বাতিল হওয়া প্রার্থীরা আপিল করার সুযোগ পাবেন। সোমবার থেকে ৯ জানুয়ারি বিকাল ৫টা পর্যন্ত আপিল গ্রহণ করা হবে। আপিল নিষ্পত্তি হবে ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারির মধ্যে।
নগরীর তিনটি আসনে জমা পড়া ৩২টি মনোনয়নপত্রের মধ্যে ১১টি বাতিল হয়েছে। জেলা এলাকার চারটি আসনে ৩০টি মনোনয়নপত্রের মধ্যে বাতিল হয়েছে ৫টি। বাতিলের কারণ হিসেবে কোথাও হলফনামায় স্বাক্ষর না থাকা, কোথাও ঋণ খেলাপি হওয়া, কোথাও এক শতাংশ ভোটারের সমর্থনের সত্যতা না পাওয়া এবং কোথাও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিল না করার বিষয়গুলো উল্লেখ করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি। প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে ২১ জানুয়ারি এবং প্রচারণা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
সাবরিনা রিমি/










