জুলাই অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতা শহীদ হওয়া এলাকার ওসি-এসপিদের নামে মামলার ঘোষণা

জুলাই অভ্যুত্থানের সময় যেসব থানা এলাকায় ছাত্র-জনতা শহীদ হয়েছেন, সেসব থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং পুলিশ সুপারসহ (এসপি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের তালিকা তৈরি করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা করার ঘোষণা দিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।

রোববার (৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সভাপতি রিফাত রশিদ এই ঘোষণা দেন। হবিগঞ্জে আন্দোলনের নেতা মাহদী হাসানকে আটক এবং পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

তদন্ত ও মামলার ঘোষণা
রিফাত রশিদ বলেন, “জুলাই অভ্যুত্থানে প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করছি। যেসব এলাকায় শহীদ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে, সেখানকার তৎকালীন ওসি এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নাম ধরে ধরে তালিকা করা হচ্ছে। এই তালিকা সম্পন্ন হওয়ার পর তাঁদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করা হবে।”

তিন দফা দাবি ও আল্টিমেটাম
সংবাদ সম্মেলনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে তিন দফা দাবি পেশ করা হয়:

১. মাহদী হাসানের মুক্তি ও ওসির প্রত্যাহার: হবিগঞ্জের নেতা মাহদী হাসানকে কেবল জামিন নয়, বরং নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে এবং হবিগঞ্জ সদর থানার ওসিকে অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে।
২. দায়মুক্তি অধ্যাদেশ: ১ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-শ্রমিক-জনতার সব কর্মকাণ্ডকে আইনি সুরক্ষা দিতে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ‘ইমডেমনেটি’ বা দায়মুক্তি অধ্যাদেশ জারি করতে হবে।
৩. সেনা ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সুরক্ষা: বিপ্লবে অবদান রাখা সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সম্মাননা ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে স্থায়ী কমিশন গঠন করা। এছাড়াও ২০০৯ সাল থেকে ফ্যাসিবাদের কারণে পদোন্নতি বঞ্চিত কর্মকর্তাদের দ্রুত পদোন্নতি ও পদায়ন নিশ্চিত করা।

উপদেষ্টাদের প্রতি হুঁশিয়ারি
দায়মুক্তি অধ্যাদেশ জারির বিষয়ে রিফাত রশিদ বলেন, “আমরা আইন উপদেষ্টা ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে অবিলম্বে মতবিনিময় করে তাঁদের চাপ দেব যাতে দ্রুত এই অধ্যাদেশ জারি করা হয়। কোনো প্রকার তালবাহানা সহ্য করা হবে না, আমরা এখন সরাসরি অ্যাকশনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।”

মাহদী হাসানের জামিন প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন যে, তাঁর কেবল একটি মামলায় জামিন হয়েছে, কিন্তু নিঃশর্ত মুক্তি মেলেনি। তাই দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখ্য সমন্বয়ক হাসিব আল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক মইনুল ইসলাম, মুখপাত্র সিনথিয়া জাহিন আয়েশাসহ অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।