নর্দায় নারীকে খুঁটিতে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনায় ৫ জন আটক

রাজধানীর গুলশানের নর্দা এলাকায় এক নারীকে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে গায়ে পানি ঢেলে নির্যাতনের ঘটনায় পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই অমানবিক ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশ অভিযানে নেমে তাদের আটক করে।

গুলশান জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) আলী আহমেদ মাসুদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ভিডিও ফুটেজ দেখে জড়িতদের শনাক্ত করার পর তাদের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

ঘটনার সূত্রপাত
পুলিশ জানায়, ঘটনাটি ঘটেছিল নর্দা এলাকার একটি ছেলেদের মাদ্রাসায়। আটককৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, গত দুই দিন আগে খুব ভোরে ওই নারী মাদ্রাসার ভেতরে প্রবেশ করেন। সে সময় শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ কক্ষে বিশ্রাম নিচ্ছিল এবং তাদের পাঞ্জাবিগুলো হ্যাঙ্গারে ঝুলানো ছিল।

অভিযোগ উঠেছে, ওই নারী মাদ্রাসার একটি ফ্লোরে গিয়ে ছাত্রদের পাঞ্জাবির পকেট হাতড়াচ্ছিলেন। তখন শিক্ষার্থীরা তাকে চোর সন্দেহে ধরে ফেলে এবং চিৎকার শুরু করলে স্থানীয়রা এসে তাকে মাদ্রাসার বাইরে নিয়ে আসে।

বিভ্রান্তিকর তথ্য ও নির্যাতন
পুলিশ কর্মকর্তা মি. মাসুদ জানান, ধরা পড়ার পর ওই নারী প্রথমে দাবি করেন তিনি তার মেয়েকে ওই মাদ্রাসায় ভর্তি করাতে এসেছেন। তবে মাদ্রাসাটি কেবল ছেলেদের জন্য জানানো হলে তিনি কথা বদলে বলেন, ছেলেকে ভর্তি করাতে এসেছেন। আটককৃতদের দাবি, এক পর্যায়ে ওই নারী নিজেকে যৌনকর্মী হিসেবে পরিচয় দেন। এরপরই তাকে বাইরে নিয়ে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে গায়ে পানি ঢালা হয়।

ভুক্তভোগীর খোঁজে পুলিশ
ভিডিওর সূত্র ধরে পাঁচজনকে আটক করা গেলেও ভুক্তভোগী ওই নারী বর্তমানে কোথায় আছেন, সে বিষয়ে নিশ্চিত নয় পুলিশ। তাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। পুলিশ জানিয়েছে, তাকে পাওয়া গেলে ঘটনার বিস্তারিত জেনে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, কোনো অপরাধ সংঘটিত হলেও আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সুযোগ নেই। বিশেষ করে একজন নারীকে এভাবে বেঁধে হেনস্তা করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।