ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের মূল আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তাঁর সহযোগী আলমগীর শেখকে গ্রেপ্তার করতে সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন র্যাবের মহাপরিচালক (ডিজি) অতিরিক্ত আইজিপি এ কে এম শহিদুর রহমান।
রোববার (৪ জানুয়ারি) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই ঘোষণা দেন।
আসামিদের অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা
র্যাব মহাপরিচালক বলেন, “হাদি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত আটজনকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাঁদের কাছ থেকে দুটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে। তবে মামলার মূল হোতা ফয়সাল ও আলমগীর এখনো পলাতক। তাঁদের গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। আমরা অত্যন্ত আশাবাদী যে দ্রুতই তাঁদের আইনের আওতায় আনতে পারব।”
আসামিরা সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে পালিয়ে গেছেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ডিজি বলেন, “প্রযুক্তিগত এবং ম্যানুয়াল সোর্স ব্যবহার করে তাঁদের অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা চলছে। যদি তাঁরা দেশের বাইরেও চলে যান, তবে তাঁদের ফিরিয়ে আনার জন্য ইন্টারপোলসহ সব ধরনের আইনি প্রক্রিয়া প্রয়োগ করা হবে। দেশের বাইরে পালালেও আসামিদের ফিরিয়ে আনার অনেক উপায় সরকারের হাতে রয়েছে।”
অন্যান্য অভিযানে সাফল্য
সংবাদ সম্মেলনে র্যাব মহাপরিচালক সাম্প্রতিক আরও কিছু চাঞ্চল্যকর ঘটনার তদন্ত ও অভিযানের তথ্য তুলে ধরেন:
- দীপু চন্দ্র দাস হত্যাকাণ্ড: ১৮ ডিসেম্বর ধর্ম অবমাননার অভিযোগে উত্তেজিত জনতার হাতে নিহত দীপু চন্দ্র দাসের ঘটনায় সাতজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
- খুলনায় জোড়া খুন: ১৭ ডিসেম্বর খুলনা আদালত প্রাঙ্গণে সংঘটিত জোড়া খুনের ঘটনায় ছায়া তদন্তের মাধ্যমে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অন্যদের ধরতে অভিযান চলছে।
- বিস্ফোরক উদ্ধার: যশোরের বাঘারপাড়া থেকে ১৪টি ককটেলসহ এক নাশকতাকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া কেরানীগঞ্জের একটি মাদরাসায় বিস্ফোরণের ঘটনায় জড়িত মূল আসামি আল-আমিনসহ দুজনকে গ্রেপ্তার এবং ভারী রাসায়নিক দ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে।
- সংবাদপত্রে হামলা: প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার ভবনে হামলার ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারে বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
র্যাব মহাপরিচালক দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জনগণের সহযোগিতা কামনা করেন এবং অপরাধীদের বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।










