সিলেটে ফের বেপরোয়া পাথরখেকো সিন্ডিকেট: প্রশাসনের অভিযানেও থামছে না সারপিন টিলার লুট

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে শক্তিশালী পাথরখেকো সিন্ডিকেট। দেশের অন্যান্য কোয়ারিতে অবৈধ পাথর উত্তোলন প্রায় বন্ধ থাকলেও কোম্পানীগঞ্জের ‘শাহ আরেফিন টিলা’ বা সারপিন টিলায় চলছে লুটের মহোৎসব। শতাধিক ‘বোমা’ মেশিন ব্যবহার করে টিলার ৫০-৬০ ফুট গভীর থেকে পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে, যা পরিবেশ ও স্থানীয় ভূ-প্রকৃতির জন্য চরম হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

লুটের অভিনব কৌশল
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দিনের আলোতে দাপটের সঙ্গে চলে পাথর উত্তোলন আর রাতের আঁধারে ট্রাক্টরের মাধ্যমে সেই পাথর পৌঁছে দেওয়া হয় ভোলাগঞ্জ ও পাড়ুয়ার বিভিন্ন ক্রাসার মেশিনে। উত্তোলনের জন্য প্রায় ১০০-১৫০ ফুট উঁচু টিলাকে খুঁড়ে এখন বিশালাকৃতির পুকুর বানিয়ে ফেলেছে লুটেরা চক্র। প্রতিদিন শতাধিক অবৈধ ‘বোমা’ মেশিন দিয়ে পাথর তুলে জড়ো করা হয় এবং রাতারাতি তা সরিয়ে ফেলা হয়।

প্রশাসনের ধরাছোঁয়ার বাইরে রাঘববোয়ালরা
গত বছরের আগস্টে আলোচিত ম্যাজিস্ট্রেট ও বর্তমান সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম যোগ দেওয়ার পর পাথর লুট বন্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছিলেন। তবে কয়েক মাস যেতে না যেতেই আবারও সক্রিয় হয়েছে চক্রটি। গত নভেম্বরে টিলা পরিদর্শনে গিয়ে লুটপাটের ক্ষতচিহ্ন দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন জেলা প্রশাসক।

অভিযোগ রয়েছে, এই সিন্ডিকেটে কোম্পানীগঞ্জের জালিয়ারপাড়, চিকাডহর, ভোলাগঞ্জ ও পাড়ুয়া এলাকার অর্ধশতাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তি জড়িত। এই চক্রে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির স্থানীয় পদধারী নেতারাও রয়েছেন। পুলিশ ও প্রশাসন প্রায় প্রতিদিন অভিযান চালিয়ে মেশিন ধ্বংস ও শ্রমিকদের আটক করলেও মূল হোতারা বা ‘রাঘববোয়ালরা’ থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। আটককৃতরা মূলত সাধারণ শ্রমিক হওয়ায় সিন্ডিকেটটি কয়েক দিনের ব্যবধানে আবারও নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করে।

পুলিশের বক্তব্য ও মামলার তথ্য
কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম খান জানান, “সারপিন টিলায় পাথর লুট বন্ধে আমরা নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছি। গত ১৫ দিনে অন্তত অর্ধশত ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে এবং ৪৭ জন হোতার নামে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে অভিযুক্তরা এলাকায় না থাকায় তাদের গ্রেপ্তার করতে বেগ পেতে হচ্ছে।” তিনি আরও জানান, এলাকার অধিকাংশ মানুষ কোনো না কোনোভাবে এই পাথর ব্যবসার সঙ্গে জড়িত হওয়ায় লুটপাট পুরোপুরি থামানো একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিপন্ন পরিবেশ
টিলা কেটে পাথর উত্তোলনের ফলে ওই এলাকায় বড় ধরনের ভূমিধসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, কেবল শ্রমিক আটক বা মেশিন ধ্বংস নয়, সিন্ডিকেটের মূল হোতাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না দিলে এই লুণ্ঠন বন্ধ করা সম্ভব নয়।