ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং এনসিপির সাবেক নেত্রী ডা. তাসনিম জারা তার নির্বাচনী তহবিলে জমা পড়া অনুদানের টাকা ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। গতকাল শনিবার (৩ জানুয়ারি) রাতে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে এক ভিডিও বার্তার মাধ্যমে তিনি এই ঘোষণা দেন। মূলত দল (এনসিপি) ত্যাগ করার পর যারা তার সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত নন, তাদের সম্মান জানিয়েই তিনি এই পদক্ষেপ নিয়েছেন।
ভিডিও বার্তায় তাসনিম জারা জানান, স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেওয়ার সময়ই তিনি অঙ্গীকার করেছিলেন—দল ত্যাগের কারণে কেউ যদি অনুদানের টাকা ফেরত চান, তবে তা দিয়ে দেওয়া হবে। এ পর্যন্ত ২০৫ জন বিকাশের মাধ্যমে পাঠানো অর্থ ফেরত চেয়েছেন। তাদের সবার টাকা ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “যারা এখনো টাকা ফেরত চাননি কিন্তু ফেরত পেতে ইচ্ছুক, তাদের জন্য আমরা একটি ফর্মের লিংক ভিডিওর ক্যাপশনে দিয়েছি। আপনাদের ট্রানজেকশন আইডি যাচাই করে দ্রুত অর্থ ফেরত দেওয়া হবে। এ নিয়ে সংশয়ের কোনো অবকাশ নেই।” ব্যাংকের মাধ্যমে পাঠানো অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়াও দ্রুতই জানানো হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া প্রসঙ্গে তাসনিম জারা সমর্থকদের নিরাশ না হওয়ার অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, “মনোনয়নপত্র বাতিলের খবর শুনে অনেকেই চিন্তিত হচ্ছেন। তবে আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস, আমরা আপিলে জিতে আসব এবং আপনাদের সমর্থিত প্রার্থী হিসেবেই নির্বাচনে লড়ব।”
উল্লেখ্য, ভোটার তালিকায় তথ্য হালনাগাদ না থাকার কারণে সৃষ্ট জটিলতায় তার মনোনয়নপত্র বাতিল করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। সোমবার (৫ জানুয়ারি) থেকে ৯ জানুয়ারির মধ্যে তিনি নির্বাচন কমিশনে আপিল করবেন।
গত ২২ ডিসেম্বর এনসিপিতে থাকাকালীন ফেসবুকের মাধ্যমে নির্বাচনী তহবিলের জন্য অনুদান চেয়েছিলেন তাসনিম জারা। মাত্র ২৯ ঘণ্টার ব্যবধানে বিপুল পরিমাণ অর্থ তার অ্যাকাউন্টে জমা হয়। তবে সম্প্রতি এনসিপি থেকে পদত্যাগ করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর থেকে সেই টাকার ভবিষ্যৎ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়েছিল।
-এম. এইচ. মামুন










