ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর আশা প্রকাশ করেছেন যে, বাংলাদেশে আসন্ন সাধারণ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দুই দেশের মধ্যে ‘সুপ্রতিবেশীসুলভ’ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে। গত ২ জানুয়ারি চেন্নাইয়ে আইআইটি মাদ্রাজের এক অনুষ্ঠানে সাম্প্রতিক ঢাকা সফর ও আঞ্চলিক রাজনীতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।
এস জয়শঙ্কর জানান, গত ৩১ ডিসেম্বর তিনি ঢাকা গিয়েছিলেন মূলত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় ভারতের প্রতিনিধিত্ব করতে। তিনি বলেন, “আমি সেখানে গিয়েছিলাম আমাদের শ্রদ্ধা জানাতে। বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ও গণতন্ত্রে বেগম জিয়ার অবদান অনস্বীকার্য।” সফরে তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি বিশেষ শোকবার্তা তার হাতে তুলে দেন। এটি ২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ভারতের কোনো উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধির প্রথম ঢাকা সফর।
চেন্নাইয়ের ওই অনুষ্ঠানে জয়শঙ্কর কূটনীতিকে ‘কমন সেন্স’ হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। প্রতিবেশীদের সাথে আচরণের ক্ষেত্রে তিনি দুটি ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “ভারত সবসময় তার বন্ধুদের পাশে থাকে। করোনা মহামারীর সময় টিকা সরবরাহ থেকে শুরু করে শ্রীলঙ্কার চরম অর্থনৈতিক সংকটে ৪ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা—ভারত ‘নেইবারহুড ফার্স্ট’ নীতির আওতায় এসব করেছে।”
নাম উল্লেখ না করে অন্য একটি প্রতিবেশী দেশের প্রতি ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, “যদি কোনো প্রতিবেশী ধারাবাহিকভাবে সন্ত্রাসবাদে মদদ দেয়, তবে ভারতের নিজের জনগণকে রক্ষা করার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। তিনি সিন্ধু পানি চুক্তির উদাহরণ টেনে বলেন, একদিকে সন্ত্রাসবাদ আর অন্যদিকে বন্ধুত্বের সুযোগ—দুটো একসাথে চলতে পারে না।”
বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন নিয়ে এস জয়শঙ্কর বলেন, “বাংলাদেশ এখন নির্বাচনের পথে এগোচ্ছে, আমরা তাদের জন্য শুভকামনা জানাই। ভারতের প্রবৃদ্ধি এখন একটি জোয়ারের মতো, যা প্রতিবেশীদেরও ওপরের দিকে টেনে তুলবে। আমরা বিশ্বাস করি পরিস্থিতি থিতু হলে এই অঞ্চলে সুপ্রতিবেশীসুলভ চেতনা আরও বৃদ্ধি পাবে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জয়শঙ্করের এই ঢাকা সফর এবং তারেক রহমানের হাতে মোদির ব্যক্তিগত চিঠি হস্তান্তরের মধ্য দিয়ে ভারত বাংলাদেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে নতুন করে ভারসাম্য রক্ষার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
-এম. এইচ. মামুন










