দীর্ঘ ১৭ বছরের প্রবাস জীবন শেষে দেশে ফেরার মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় মাতৃবিয়োগ। একদিকে মা বেগম খালেদা জিয়াকে হারানোর গভীর ব্যক্তিগত শূন্যতা, অন্যদিকে সামনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিশাল চ্যালেঞ্জ। এই দুইয়ের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এখন শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে দেশ ও দল পুনর্গঠনে মনোনিবেশ করছেন।
তার ঘনিষ্ঠজন ও দলীয় সূত্র বলছে, তারেক রহমানের ভাবনায় এখন একাধারে দল এবং রাষ্ট্র সংস্কার—উভয়ই সমান গুরুত্ব পাচ্ছে। বিএনপির দায়িত্বশীল নেতাদের মতে, বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু কেবল একজন অভিভাবক হারানো নয়, বরং একটি রাজনৈতিক যুগের অবসান। তবে এই শোক কাটিয়ে তারেক রহমান এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি ‘পরিণত ও কৌশলী’। তার রাজনৈতিক দর্শনের মূলে রয়েছে জনগণের শাসন, রাষ্ট্রীয় কাঠামোর সংস্কার, সুশাসন এবং মানবাধিকার নিশ্চিত করা। বিশেষ করে ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী পরিস্থিতিতে একটি বৈষম্যহীন ও আধুনিক বাংলাদেশ গড়তে তিনি নানামুখী কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করছেন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী মঙ্গলবার সড়কপথে উত্তরবঙ্গ সফরে যেতে পারেন তারেক রহমান। সফরের শুরুতেই তিনি জুলাই অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ রংপুরের আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করবেন। কাল সোমবার বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এই সফর এবং তার ‘পূর্ণ চেয়ারম্যান’ হওয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য আতিকুর রহমান রুমন জানিয়েছেন, মঙ্গলবার পর্যন্ত দলীয় শোক কর্মসূচি থাকায় সফরের বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
মায়ের মৃত্যুর শোকের আবহেই বিএনপি এখন পুরোপুরি নির্বাচনী আমেজে। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ইতিমধ্যে ৪১ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়েছে। দলের হাইকমান্ড এখন মনোনয়ন যাচাই-বাছাই, বিদ্রোহী প্রার্থী সামলানো এবং মিত্রদের জন্য আসন বণ্টন নিয়ে কাজ করছে। একই সাথে প্রচার কৌশল ও নির্বাচনী ইশতেহার চূড়ান্ত করার কাজও দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “দেশনেত্রীর চলে যাওয়া দেশবাসীর জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। তবে তার প্রতি মানুষের এই ভালোবাসা বিএনপিকে আরও শক্তিশালী করবে। আগামীতে তারেক রহমানের নেতৃত্বই স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রকে সুসংহত করবে।”
সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানান, শোকের কর্মসূচি শেষ হলেই তারা পূর্ণোদ্যমে সাংগঠনিক কাজে ফিরবেন। অন্যদিকে, তারেক রহমানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা বদরুল আলম চৌধুরী শিপলু জানান, আগামী দিনের নেতৃত্বে মেধাবী ও সৎ তরুণদের অগ্রাধিকার দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের।
তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠজনদের দাবি, বিভাজনের রাজনীতি পরিহার করে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনই তার প্রধান লক্ষ্য। গতকাল তিনি নিজের একান্ত সচিব ও প্রেস সচিব নিযুক্ত করার মধ্য দিয়ে আগামীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নিজের প্রস্তুতি স্পষ্ট করেছেন।
-এম. এইচ. মামুন










