বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সংসদীয় আসন–২৮০, চট্টগ্রাম–৩ (সন্দ্বীপ) আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের দলীয় প্রার্থী মুহাম্মদ আমজাদ হোসেনের মনোনয়নপত্র গতকাল চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক অবৈধ বা বাতিল ঘোষণার প্রতিবাদে আজ ০৩/০১/২০২৬ ইং রোজ- শনিবার, সন্দ্বীপ উপজেলার দলীয় কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার নবীন ও প্রবীণ সাংবাদিকসহ ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মুহাম্মদ আমজাদ হোসেন অভিযোগ করেন, একটি বিশেষ দলের ষড়যন্ত্র ও ইন্ধনে যাবতীয় তথ্য-উপাত্ত এবং যোগ্যতা সঠিক থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বের ইস্যুকে সামনে এনে তাঁর মনোনয়নকে অবৈধ ঘোষণা করানো হয়েছে।
কোন দল এই ষড়যন্ত্রে জড়িত এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “নির্বাচনের পূর্বে মাঠের পরিবেশ ও পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার স্বার্থে এবং সঙ্গত কারণেই এই মুহূর্তে আমি এ বিষয়ে বিস্তারিত বলতে চাই না। আমার সামনে এখনো অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ বাকি রয়েছে। সময় ও সুযোগ এলেই ইনশাআল্লাহ সবকিছু স্পষ্টভাবে প্রকাশ করা হবে।”
দ্বৈত নাগরিকত্ব প্রসঙ্গে আলোকিত স্বদেশ–এর আমাদের সন্দ্বীপ প্রতিনিধি “আবু সাঈদ খানে” র এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগের প্রক্রিয়া অত্যন্ত দীর্ঘ। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়া যেমন কঠিন ও লম্বা সময়ের ব্যাপার ঠিক তেমনিই নাগরিকত্ব বাতিল করাও কঠিন ও লম্বা সময়ের ব্যাপার। সাধারণত দূতাবাসে সাক্ষাৎকারের জন্য কয়েক মাস থেকে এক বছরেরও বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়। এরপর সরাসরি উপস্থিতিতে একটি সংক্ষিপ্ত আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। পরে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে Certificate of Loss of Nationality (CLN) ইস্যু ও ডাকযোগে পাঠাতে আরও কয়েক মাস সময় লাগে। পাশাপাশি আইআরএস-এর চূড়ান্ত কর-সংক্রান্ত আনুগত্য (Tax Compliance) সম্পন্ন করতে প্রায় এক বছর অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন হয়। ফলে পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হতে সাধারণত ৬ থেকে ১২ মাস বা তারও কম বেশি সময় লেগে যায়, যা সংশ্লিষ্ট কনস্যুলেটে অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাওয়ার ওপর নির্ভরশীল।
তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র সরকারে তাঁর নাগরিকত্ব পরিত্যাগের জন্য আবেদন করা হয়েছে এবং সে আবেদনের বিপরীতে তিনি Acknowledgement পেয়েছেন, তবে এখনো Approval পাননি। অনুমোদন পেলেই এই জটিলতার অবসান ঘটবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, গত ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ সালে তিনি বাংলাদেশের পাসপোর্ট গ্রহণ করেছেন। অথচ একটি দল অপতথ্য ছড়িয়ে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের রিটার্নিং অফিসারকে বিভ্রান্ত বা প্রভাবিত করে তাঁর মনোনয়ন অবৈধ ঘোষণা করিয়েছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের তীব্র প্রতিবাদ জানাতেই এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, এলডিপি ও এনসিপিসহ বিভিন্ন দলের সমন্বয়ে গঠিত জোট থেকে সন্দ্বীপে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আলাউদ্দিন সিকদারকে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে কিনা—এমন প্রশ্নের উত্তরে মুহাম্মদ আমজাদ হোসেন বলেন, “জোট থেকে এখনো সন্দ্বীপে কাউকে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়নি। কেউ যদি প্রার্থী হয়ে থাকেন, তবে তা নিজ নিজ দলের পক্ষ থেকে হতে পারে, জোটের পক্ষ থেকে নয়। কেউ যদি নিজেকে জোটের প্রার্থী বলে প্রচার করেন, তাহলে তা সম্পূর্ণ জনগণের সাথে প্রতারণা,মিথ্যা, বানোয়াট ও নিছক ভণ্ডামি ছাড়া আর কিছুই নয়।”
তিনি আরও বলেন, জোটের চূড়ান্ত প্রার্থী কে হবেন, সে বিষয়েও খুব শিগগিরই জোট পরিষ্কার সিদ্ধান্ত জানাবে।
নাগরিকত্ব জটিলতায় যদি তাঁর প্রার্থিতা ফিরে না আসে বা জোটগতভাবে অন্য কোনো প্রার্থী চূড়ান্ত হয়, সে ক্ষেত্রে তিনি মাঠে থাকবেন কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে মুহাম্মদ আমজাদ হোসেন বলেন, “আমি প্রার্থী থাকি বা না থাকি, সন্দ্বীপের মানুষের ভাগ্য উন্নয়ন এবং ন্যায্য অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে সন্দ্বীপবাসীর পাশে থেকেই কাজ করে যাব।”
আবু সাঈদ খান, সন্দ্বীপ










