পটুয়াখালী-৩ (দশমিনা-গলাচিপা) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের লড়াইয়ে থাকা দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর হলফনামার তথ্যে চমক দেখা গেছে। গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি ও বিএনপি জোটের প্রার্থী নুরুল হক নুরের বার্ষিক আয় স্বতন্ত্র প্রার্থী (বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত) হাসান মামুনের তুলনায় প্রায় চার গুণ বেশি। রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দেওয়া হলফনামা বিশ্লেষণ করে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
নুরুল হক নুরের আয় ও সম্পদঃ হলফনামার তথ্যমতে, ১৯৯৪ সালে জন্ম নেওয়া নুরুল হক নুর পেশায় একজন ব্যবসায়ী। বর্তমানে তার ব্যবসা থেকে বার্ষিক আয় ২০ লাখ ৪০ হাজার ৪৮ টাকা। এর মধ্যে ১৫ লাখ ৮৫ হাজার ৪২৬ টাকা আসে ব্যবসা থেকে এবং বাকি অংশ অন্যান্য উৎস থেকে।
মোট সম্পদঃ স্থাবর-অস্থাবর মিলিয়ে নুর ৯০ লাখ ৪৩ হাজার ৮৪১ টাকার মালিক।
নগদ ও বিনিয়োগঃ তার কাছে নগদ ২৮ লাখ ৩৮ হাজার ২১৭ টাকা রয়েছে এবং উত্তরাধিকার সূত্রে আমানত রয়েছে ৫৫ লাখ ৮০ হাজার ৩১১ টাকা। এছাড়া একটি কোম্পানিতে ২ লাখ ৭৫ হাজার টাকার শেয়ার রয়েছে তার।
মামলাঃ নুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। তার বিরুদ্ধে মোট ১৪টি মামলা হলেও ৮টি থেকে তিনি খালাস পেয়েছেন। ৬টি মামলা বর্তমানে বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে।
হাসান মামুনের আয় ও সম্পদঃ অন্যদিকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি হাসান মামুন তার বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন ৪ লাখ ৯৯ হাজার ৭৬৮ টাকা। ৭৩ বছর বয়সী এই প্রার্থীর আয়ের প্রধান উৎস কৃষি ও ব্যবসা।
-
সম্পদঃ আয়কর বিবরণী অনুযায়ী তার সম্পদের পরিমাণ ৮ লাখ ৪৪ হাজার ৮৫৯ টাকা। তবে নুরের তুলনায় তার কাছে থাকা স্বর্ণালংকারের পরিমাণ বেশি, যার মূল্য ২২ লাখ ৫০ হাজার ৮৫৯ টাকা।
-
মামলাঃ তার বিরুদ্ধে বিগত সময়ে ১৮টি মামলা হয়েছিল, যার মধ্যে ১৩টি থেকে তিনি অব্যাহতি এবং ৪টি থেকে খালাস পেয়েছেন। ১টি মামলা এখনো চলমান।
স্ত্রীর সম্পদের হিসাবঃ হলফনামায় দেখা গেছে, হাসান মামুনের চেয়ে তার স্ত্রীর সম্পদের পরিমাণ অনেক বেশি। মামুনের স্ত্রীর ১ কোটি ৬৮ লাখ টাকার সম্পদ থাকলেও নুরের স্ত্রীর সম্পদের পরিমাণ ১২ লাখ ৬৬ হাজার ৮১৮ টাকা। মামুনের স্ত্রীর কাছে ৪৭ লাখ টাকার গাড়ি এবং ৫২ লাখ টাকার স্বর্ণালঙ্কার রয়েছে।
পটুয়াখালী-৩ আসনে বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর সমর্থন নিয়ে নুর এগিয়ে থাকলেও হাসান মামুনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে থাকা নির্বাচনী সমীকরণকে বেশ জটিল করে তুলেছে বলে মনে করছেন স্থানীয় ভোটাররা।
-এম. এইচ. মামুন










