এক আইএমইআই নম্বরেই ৩ কোটি ফোন! ক্লোন হ্যান্ডসেট নিয়ে ভয়ংকর তথ্য

জাতীয় যন্ত্র পরিচিতি নিবন্ধন ব্যবস্থা (NEIR) চালুর পর দেশে ‘ক্লোন’ বা নকল মোবাইল ফোন নিয়ে হাড়হিম করা তথ্য বেরিয়ে এসেছে। বিটিআরসি-র তথ্যের বরাতে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব জানিয়েছেন, দেশে একটি মাত্র আইএমইআই (IMEI) নম্বর ব্যবহার করেই সচল রয়েছে ৩ কোটি ৯১ লাখেরও বেশি স্মার্টফোন।

ভয়াবহ পরিসংখ্যান

শুক্রবার (২ জানুয়ারি) এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে উপদেষ্টা জানান, দেশের মোবাইল নেটওয়ার্কে বর্তমানে লাখ লাখ ভুয়া আইএমইআই নম্বরযুক্ত ফোন সক্রিয় রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি ‘১১১১১১১১১১১১১’ বা ‘০০০০০০০০০০০০০’ এর মতো প্যাটার্নের কথা উল্লেখ করেন।

বিগত ১০ বছরের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, শুধুমাত্র ‘99999999999999’ আইএমইআই নম্বরটিতেই ৩ কোটি ৯১ লাখ ২২ হাজার ৫৩৪টি বিভিন্ন কম্বিনেশন পাওয়া গেছে। এছাড়া আরও কিছু নির্দিষ্ট আইএমইআই নম্বরে সাড়ে ১৯ লাখ থেকে ১৫ লাখ পর্যন্ত ক্লোন ডিভাইস সক্রিয় রয়েছে। এমনকি শুধুমাত্র ‘শূন্য’ (০) আইএমইআই নম্বরেও ৫ লাখ ৮৬ হাজারের বেশি ফোন চলছে।

ডিজিটাল জালিয়াতির মূল উৎস

উপদেষ্টা তার স্ট্যাটাসে ডিজিটাল অপরাধের সঙ্গে এই অবৈধ ফোনের যোগসূত্র তুলে ধরেন। তিনি জানান:

  • বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০২৪ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৭৩ শতাংশ ডিজিটাল জালিয়াতি ঘটে অনিবন্ধিত ডিভাইসের মাধ্যমে।

  • ২০২৩ সালে e-KYC জালিয়াতির ৮৫ শতাংশই ঘটেছিল অবৈধ বা পুনঃপ্রোগ্রাম করা হ্যান্ডসেট ব্যবহার করে।

  • ওই বছর ১৮ লাখ ফোন চুরির রিপোর্ট হলেও অধিকাংশ ফোন উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি এই ক্লোন আইএমইআই-এর কারণে।

ব্যবহারকারীদের জন্য কী বার্তা?

লাখ লাখ নাগরিক এসব নিম্নমানের নকল ফোন ব্যবহার করছেন যেগুলোর কোনো রেডিয়েশন টেস্ট বা নিরাপত্তা পরীক্ষা হয়নি। তবে জনজীবনে দুর্ভোগ এড়াতে সরকার এখনই এই ফোনগুলো বন্ধ করবে না। এসব ফোনকে ‘গ্রে’ (Grey) হিসেবে ট্যাগ করা হবে।

উপদেষ্টা ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব এই জালিয়াতিকে ‘অভাবনীয় ও নজিরবিহীন’ আখ্যা দিয়ে বলেন, সাধারণ মানুষের কাছে আন-অফিশিয়াল ফোনের নামে নকল ফোন বিক্রি করে বড় ধরনের প্রতারণা করা হয়েছে। এই চক্রের লাগাম টানা এখন সময়ের দাবি।