প্রিয় নেত্রীর সমাধিতে জনসাধারণের ঢল: অশ্রুসিক্ত মোনাজাত

সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাতে মানুষের ঢল নেমেছে। গতকাল ইংরেজি নতুন বছরের প্রথম দিনে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে প্রিয় নেত্রীর কবর জিয়ারত করতে আসেন দলীয় নেতা-কর্মীসহ হাজার হাজার সাধারণ মানুষ। সেখানে তারা পুষ্পস্তবক অর্পণ, পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও অশ্রুসিক্ত মোনাজাতের মাধ্যমে দেশনেত্রীর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, প্রিয় নেত্রীর সমাধির সামনে দাঁড়িয়ে অঝোর ধারায় কাঁদছেন হাজারো মানুষ। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে অনেকের কণ্ঠে ছিল কান্নার শব্দ, দুহাত তুলে মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করছেন—‘পরপারে যেন তিনি ভালো থাকেন’। শুধু মুসলিম সম্প্রদায় নয়, হিন্দু ও বৌদ্ধসহ অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদেরও নিজ নিজ রীতিতে শ্রদ্ধা জানাতে এবং দেশমাতা খালেদা জিয়ার আত্মার শান্তির জন্য প্রার্থনা করতে দেখা গেছে।
গতকাল সকাল থেকেই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজার ও চন্দ্রিমা উদ্যান সংলগ্ন এলাকায় ভিড় জমতে শুরু করে। বেলা বাড়ার সাথে সাথে বিজয় সরণি ও এর আশপাশের সড়কগুলো লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে। যদিও নিরাপত্তার কারণে শুরুতে প্রবেশপথে কিছুটা কড়াকড়ি ছিল, তবে দুপুর ১২টার পর উদ্যানের প্রবেশমুখ খুলে দিলে অপেক্ষমাণ মানুষের স্রোত সমাধিস্থলের দিকে ধাবিত হয়। দায়িত্বরত পুলিশ সদস্য মুনতাসির জানান, বিশৃঙ্খলা এড়াতে শুরুতে কঠোর অবস্থান থাকলেও পরিস্থিতি বুঝে পরে গেট খুলে দেওয়া হয়।
সকালে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর নেত্রীর কবর জিয়ারত করেন। এ সময় সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “আমাদের নেত্রী ছিলেন স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার মূর্তমান প্রতীক। তিনি আজীবন শহীদ জিয়াউর রহমানের আদর্শকে সমুন্নত রেখেছেন।” একই সময়ে নিরাপত্তা বেষ্টনীর সামনে দাঁড়িয়ে মোনাজাত করেন দলের যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স।
প্রিয় নেত্রীকে একনজর দেখতে বা কবরের মাটি ছুঁয়ে দেখতে অনেকে ঢাকার বাইরে থেকেও ছুটে এসেছেন। মানিকগঞ্জ থেকে আসা নাসিমা নাজনীন জানান, তিনি সরাসরি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত না হলেও খালেদা জিয়ার প্রতি ভালোবাসার টানে ছুটে এসেছেন। নেত্রকোনা থেকে আসা যুবদল কর্মী আনোয়ারুল ইসলাম টুটুল বলেন, “বাংলাদেশ যতদিন থাকবে, প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম দেশনেত্রীকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে।” এ ছাড়া পঞ্চগড় জেলা বিএনপির সভাপতি জাহিরুল ইসলাম এবং কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলা বিএনপি নেতা শাহীন আহমেদসহ তৃণমূলের অসংখ্য নেতাকর্মী গতকাল জিয়ারত ও পুষ্পস্তবক অর্পণে অংশ নেন।
শেরেবাংলা নগরের প্রতিটি প্রান্ত কাল যেন এক শোকাতুর জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছিল। ফুলে ফুলে ছেয়ে যায় দেশনেত্রীর অন্তিম শয়ান। সবার মনেই ছিল এক বিষণ্ণতা আর পরম করুণাময়ের কাছে নেত্রীর জন্য জান্নাত কামনার আকুতি।

 

-এম. এইচ. মামুন