চলে গেলেন কিন্তু রয়ে গেলেন সকলের মনের মণিকোঠায় 

 

খালেদা জিয়া। বেগম খালেদা জিয়া। দেশনেত্রী। আপসহীন দেশনেত্রী। সাধারণ গৃহবধু থেকে রাজনীতিবিদ। প্রধানমন্ত্রী। দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী। প্র্রধানমন্ত্রী বেগম খাালেদা জিয়া। রাষ্ট্রনায়ক। জাতীয় ঐক্যের প্রতীক। ধৈর্য্যের মূর্ত প্রতীক। ত্যাগের অপার মহীমায় উদ্ভাসিত। দেশ প্রেমিকের উজ্জ্বল নক্ষত্র। নীতির প্রশ্নে দৃঢ়। গণমানুষের অধিকার আদায়ে আপসহীন। স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে অগ্রসেনানী। দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব প্রশ্নে অবিচল। ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে অনন্য ও বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর। রাজনৈতিক সংকটকালের ভরসাস্থল। একজন মহীয়সী নারী। মার্জিত আচরণের অধিকারিণী। মমতাময়ী মা। আরো অনেক বিশেষণ তাঁর প্রাপ্য। তাইতো তিনি সকলের সম্মান অর্জন করেছেন। তাঁর সম্মান অমলিন।

৩০ ডিসেম্বর ২০২৫। সকাল ৬টা। তিনি এই ইহকাল ছেড়ে চলে গেলেন। তিনি চলে গেলেন কিন্তু রয়ে গেলেন দেশের আপামর সকল জনগোষ্ঠীর মনের মণিকোঠায় । জাতি আজ গভীর শোকাহত। একটি মহাকাব্যের অবসান হলো। একটি সংগ্রামের ইতিহাসের অবসান হলো। ইতি ঘটলো একটি গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়ের। তবে নতুন করে আবার ইতিহাস লেখা হবে। তাঁকে নিয়ে।

আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে অনন্য ও বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর। রাজনৈতিক সংকটকালের ভরসাস্থল। একজন মহীয়সী নারী। মার্জিত আচরণের অধিকারিণী। মমতাময়ী মা। আরো অনেক বিশেষণ তাঁর প্রাপ্য। তাইতো তিনি সকলের সম্মান অর্জন করেছেন। তাঁর সম্মান অমলিন।

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যখন রাষ্ট্র ক্ষমতায় ছিলেন তখন বেগম খালেদা জিয়াকে প্রকাশ্যে খুব একটা দেখা যেত না। রাজনীতিবিমুখ এরকম সাধারণ জীবন-যাপন করা একজন নারী যখন রাজনীতিতে আসেন তখন সেটা অনেকটা চমক ছিল। অনেককে চমকেও দিয়েছিল। অনেকেই ভাবতেই পারেননি—তিনি রাজনীতিতে আসবেন। রাজনীতিতে প্রবেশ করার ক্ষেত্রে পারিবারিক অনাগ্রহ ও নিজের অনাগ্রহ থাকা সত্ত্বেও তিনি রাজনীতিতে আসেন। এজন্য শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ঘনিষ্ট কিছু সহকর্মীর অবদান রয়েছে। বিএনপি’র ওয়েবসাইটের তথ্য থেকে জানা যায়, বেগম খালেদা জিয়া ১৯৮২ সালে ১৩ জানুয়ারী প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। ঐদিন তিনি বিএনপি’র প্রাথমিক সদস্যপদ গ্রহণ করেন। ঐ বছরই ৭ নভেম্বর তিনি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সমাধিস্থলে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং প্রথম বক্তব্য প্রদান করেন। সময়ের পথপরিক্রমায় বিএনপি’র চেয়ারম্যান হওয়ার জন্য এক সময় বেগম খালেদা জিয়া এবং রাষ্ট্রপতি আব্দুস সাত্তার একইসঙ্গে প্রার্থী হয়েছিলেন। তবে বিভিন্ন কারণে বেগম খালেদা জিয়া নিজের প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে নেন। রাষ্ট্রপতি আব্দুস সাত্তারই দলের চেয়ারম্যান হলেন। সময়ের নির্মম পরিহাস, ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ তখনকার সেনাপ্রধান জেনারেল হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদ এক সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি আব্দুস সাত্তারকে ক্ষমতাচ্যুত করে সামরিক শাসন জারি করেন। এই পরিস্থিতিতে রাজনীতিতে আব্দুস সাত্তারের নেতৃত্ব দুর্বল হয়ে পড়ে।

এমতাবস্থায় তিনি দলের আনুষ্ঠানিক চেয়ারম্যান হিসেবে থাকলেও দল পরিচালনার ক্ষেত্রে বেগম খালেদা জিয়ার প্রভাব দিন দিন বাড়তে থাকে। ১৯৮৩ সালের মার্চে বেগম খালেদা জিয়া দলের সিনিয়র ভাইস-চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন এবং কয়েকমাস পরেই তিনি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হন। এ সময় স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে বেগম খালেদা জিয়া সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে থাকেন। পরবর্তীতে তিনি ১৯৮৪ সালের ১০ মে বিএনপি’র চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। সেই থেকে মৃত্যু অবধি তিনি দলের চেয়ারপার্সন হিসেবেই ছিলেন।

প্রথম সন্তান হারানোর পর ইস্পাত-কঠিন অসীম ধৈর্য্যের ইতিহাসও হবে বেশ বড়। তাইতো ইতিহাসের পাতায় তিনি যুগ যুগ ধরে উজ্জ্বল নক্ষত্রের মতো বেঁচে থাকবেন। আমরা মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্নার মাগফেরা কামনা করছি। দয়ালু মহান আল্লাহ তা’য়ালার কাছে দোয়া করছি তিনি যেন মরহুমাকে জান্নাতুল ফেরদৌসের মেহমান হিসেব কবুল করেন।

 লেখক: প্রফেসর . শাফিউল ইসলাম, লোকপ্রশাসন বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।