পবিত্র কোরআন শরীফ হাতে শপথ নিলেন নিউইয়র্কের মেয়র মামদানি

যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ব্যয়বহুল শহর নিউইয়র্কে জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর অঙ্গীকার নিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন জোহরান মামদানি। বৃহস্পতিবার ভোররাতে এক ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানে নিউইয়র্ক সিটির ১১২তম মেয়র হিসেবে শপথ নেন তিনি।

৩৪ বছর বয়সী এই ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্ট নেতা উগান্ডা থেকে আসা এক অভিবাসী। তিনি নিউইয়র্ক সিটির ইতিহাসে প্রথম মুসলিম মেয়র, প্রথম দক্ষিণ এশীয় মেয়র এবং গত এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ মেয়র হিসেবে ইতিহাস গড়লেন।

কুইন্স থেকে নির্বাচিত সাবেক স্টেট অ্যাসেম্বলিম্যান মামদানি গত গ্রীষ্মে ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে জয়লাভ করে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেন। তার নির্বাচনী প্রচারণার মূল বিষয় ছিল ‘অ্যাফোর্ডেবিলিটি’ বা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো। তিনি সার্বজনীন শিশু পরিচর্যা কর্মসূচি চালু, প্রায় ২০ লাখ ভাড়া-নিয়ন্ত্রিত ভাড়াটিয়ার জন্য ভাড়া স্থগিত এবং নগর বাসকে ‘দ্রুত ও বিনামূল্যে’ করার প্রতিশ্রুতি দেন।

বৃহস্পতিবার ঠিক মধ্যরাতের পর ম্যানহাটনের সিটি হল পার্কের নিচে অবস্থিত ঐতিহাসিক ও পরিত্যক্ত সিটি হল সাবওয়ে স্টেশনে এই শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। ১৯০৪ সালে চালু হওয়া নিউইয়র্কের প্রথম দিককার সাবওয়ে স্টেশনগুলোর একটি এই স্থানটি ১৯৪৫ সাল থেকে জনসাধারণের জন্য বন্ধ। প্রতীকী এই স্থানে শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে নগর পরিবহনকে নিজের প্রশাসনের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেন মামদানি।

নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস—যাকে মামদানি তার ‘রাজনৈতিক অনুপ্রেরণা’ বলে উল্লেখ করেছেন—শপথবাক্য পাঠ করান। অনুষ্ঠানে তার স্ত্রী, শিল্পী রামা দুওয়াজিও উপস্থিত ছিলেন।

মামদানি নগর পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নে জোর দিয়েছেন। বাস ভাড়া বিনামূল্যে করার পাশাপাশি সাইকেল লেন সম্প্রসারণ এবং পথচারীবান্ধব সড়কব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার বিকেলে সিটি হল প্লাজায় আনুষ্ঠানিক গণশপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে প্রায় ৪ হাজার মানুষের উপস্থিতি প্রত্যাশিত। এতে প্রগতিশীল আন্দোলনের শীর্ষ নেতারা অংশ নেবেন। ডেমোক্র্যাটিক কংগ্রেসওম্যান আলেক্সান্দ্রিয়া ওকাসিও-কোর্তেজ মামদানিকে পরিচয় করিয়ে দেবেন এবং স্বাধীন ভারমন্ট সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স প্রকাশ্যভাবে শপথ পাঠ করাবেন। একই সঙ্গে ‘ইনঅগারেশন অব আ নিউ এরা’ শিরোনামে একটি ব্লক পার্টির আয়োজন করা হয়েছে।

তবে মামদানির উচ্চাভিলাষী কর্মসূচি নিয়ে সংশয়ও রয়েছে। ধনীদের ওপর কর বাড়িয়ে এসব পরিকল্পনার অর্থ জোগানের প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি, যা বাস্তবায়নে রাজ্য আইনসভা ও গভর্নরের সমর্থন প্রয়োজন। অর্থনৈতিকভাবে শক্ত অবস্থানে থাকলেও নিউইয়র্কে ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয় কর্মজীবী মানুষের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।

নতুন মেয়রের অভিষেক এমন এক সময়ে হলো, যখন জাতীয় পর্যায়ে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি নিজেদের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নিয়ে বিতর্কে রয়েছে। মামদানির বিজয় দলটির ভেতরে বামঘেঁষা নীতির দিকে আরও অগ্রসর হওয়া এবং আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনে ‘অ্যাফোর্ডেবিলিটি’কে প্রধান ইস্যু করার প্রশ্নে নতুন করে আলোচনা উসকে দিয়েছে।

এম এম সি/