সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয় শোক এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও উৎসবের জনপদে পরিণত হয়েছিল রাজধানী ঢাকা। ইংরেজি নববর্ষকে বরণ করতে বুধবার রাতে রাজধানীর আকাশ ফানুসে ছেয়ে যায় এবং মুহুর্মুহু আতশবাজিতে প্রকম্পিত হয় চারপাশ। এদিকে মোহাম্মদপুরের মনসুরাবাদে ফানুস থেকে অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়া গেছে।
বুধবার রাত সাড়ে ১১টা থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ফানুস উড়তে দেখা যায়। রাত ১২টা বাজার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় তীব্র শব্দের পটকা ও বর্ণিল আতশবাজি। ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী বুধবার এক গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ফানুস, আতশবাজি ও সব ধরনের উচ্চশব্দ নিষিদ্ধ করলেও নগরবাসীর মধ্যে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি।
ধানমন্ডিতে ড্রোন উড়িয়ে এবং আগুনের ফুলকির মতো আতশবাজি ফুটিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানানো হয়। মোহাম্মদপুরের বসিলা ও আদাবর এলাকায় রাত ১০টার আগেই ফানুস ওড়ানো শুরু হয়। মিরপুর, মোহাম্মদপুরের মনসুরাবাদ এলাকায় ওড়ানো ফানুস থেকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।
আতশবাজির বিকট শব্দে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে শহরের অবলা প্রাণীগুলো। ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অনেক পাখিকে দিগ্বিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে উড়তে এবং ছাদে আশ্রয় নিতে দেখা যায়। অলিগলিতে কুকুর ও বিড়ালদেরও আতঙ্কিত হয়ে ছোটাছুটি করতে দেখা গেছে। নগরীর শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ বাসিন্দারা বিকট শব্দে চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত দেশব্যাপী রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। শোকের মর্যাদা রক্ষায় ডিএমপি উন্মুক্ত স্থানে কোনো ধরনের ডিজে পার্টি, র্যালি বা উৎসব আয়োজনে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল।
অধিকাংশ এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি থাকলেও উদযাপনকারীদের থামাতে তেমন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ বা ভ্রাম্যমাণ আদালতের তৎপরতা চোখে পড়েনি বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
ডিএমপির জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছিল:
১. সব ধরনের পটকা, আতশবাজি ও ফানুস ওড়ানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
২. উন্মুক্ত স্থানে কোনো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বা ডিজে পার্টি করা যাবে না।
৩. উচ্চ স্বরে গাড়ির হর্ন বাজানো বা জনদুর্ভোগ সৃষ্টিকারী কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে।
তবে এই নির্দেশনার তোয়াক্কা না করেই রাজধানীর প্রতিটি পাড়া-মহল্লার ছাদে মধ্যরাত অবধি চলেছে উৎসবের উন্মাদনা।
-এম এইচ মামুন










