অনুষ্ঠিত হচ্ছে না ইজতেমা, খুলে ফেলা হচ্ছে প্যান্ডেল

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের প্রাক্কালে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে সব ধরনের সমাবেশ স্থগিত করা হয়েছে। সরকারি নির্দেশনা মেনে তাবলিগ জামাতের (শুরা-ই-নেজাম) পক্ষ থেকে খুরুজের জোড় আয়োজন না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে ময়দানে নির্মিত প্যান্ডেল সরিয়ে ফেলার কাজ শুরু হয়েছে।

গত মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক-৬ শাখা থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে নির্বাচনের আগে ইজতেমা ময়দানে কোনো প্রকার বড় জমায়েত না করার নির্দেশ দেওয়া হয়। মন্ত্রণালয়ের এই সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাবলিগ জামাত তাদের নির্ধারিত ‘খুরুজের জোড়’ কর্মসূচি স্থগিত করেছে।

এ বিষয়ে তাবলিগ জামাত বাংলাদেশের মিডিয়া সমন্বয়ক হাবিবুল্লাহ রায়হান জানান:

“আমাদের মুরুব্বিরা সব সময় প্রশাসনের সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে আমরা ২, ৩ ও ৪ জানুয়ারির নির্ধারিত খুরুজের জোড় বাতিল করেছি। টঙ্গী মাঠে এখন কোনো সমাবেশ হবে না।”

মাঠে জমায়েত হওয়ার পরিবর্তে মুসল্লিদের নিজ নিজ এলাকা থেকে দাওয়াতি কার্যক্রমে বের হওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে- যারা আল্লাহর রাস্তায় চিল্লা বা তিন চিল্লার জন্য বের হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তাদের টঙ্গী মাঠে না এসে নিজ নিজ জেলা বা এলাকা থেকে বের হতে বলা হয়েছে। যারা ইতোমধ্যে ৫ দিনের জোড় থেকে বের হয়েছেন, তাদের ওয়াক্ত শেষ করে ময়দানে না আসার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ময়দানে জোড় উপলক্ষে যেসব অস্থায়ী প্যান্ডেল করা হয়েছিল, বুধবার থেকেই সেগুলো খুলে ফেলার কাজ শুরু হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের স্বার্থে এই মুহূর্তে কোনো বড় জমায়েতের অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয়। তবে হাবিবুল্লাহ রায়হান জানান, সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হওয়ার পর সুবিধাজনক সময়ে টঙ্গীতে বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হবে।

ইতোমধ্যেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন টঙ্গী ময়দান এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে এবং কোনো প্রকার জনসমাগম যাতে না হয় সেদিকে নজর রাখছে।

-এম. এইচ. মামুন