স্মরণকালের বৃহত্তম জানাজা ও লাখো মানুষের অশ্রুসিক্ত ভালোবাসায় বিদায় নিলেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। আজ বুধবার বিকেলে শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে (চন্দ্রিমা উদ্যান) স্বামী, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁকে দাফন করা হয়েছে।
আজ বেলা ৩টা ৩ মিনিটে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা ও সংলগ্ন মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা শুরু হয়। জানাজা শুরুর আগেই পুরো এলাকা এক বিশাল জনসমুদ্রে পরিণত হয়। তীব্র ভিড় সামলে বেলা ৩টা ৫ মিনিটে জানাজা সম্পন্ন হয়। জানাজায় দলমত নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষ ছাড়াও যোগ দেন বিদেশি কূটনীতিক ও রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধিরা। মানুষের ঢল মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ছাড়িয়ে আশপাশের কয়েক কিলোমিটার এলাকা পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছিল।
জানাজা শেষে সংসদ ভবন এলাকা থেকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কড়া নিরাপত্তা বেষ্টনীতে বেগম জিয়ার মরদেহ জিয়া উদ্যানের দিকে নেওয়া হয়। জাতীয় পতাকায় মোড়ানো লাশবাহী গাড়িটি যখন এগোচ্ছিল, তখন রাস্তার দুপাশে দাঁড়িয়ে হাজারো মানুষ তাঁদের প্রিয় নেত্রীকে শেষ বিদায় জানান।
বিকেল সাড়ে চারটার দিকে বিশেষ একটি বাহনে করে তাঁর মরদেহ জিয়াউর রহমানের সমাধির কাছাকাছি পৌঁছায়। সেখানে কফিনটি বহন করে নিয়ে যান সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীর সদস্যরা।
সমাধিস্থলে পৌঁছানোর পর রাষ্ট্রীয় প্রটোকল অনুযায়ী তাঁকে সম্মান জানানো হয়। এরপর ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে চন্দ্রিমা উদ্যানে স্বামী জিয়াউর রহমানের কবরের পাশেই বেগম খালেদা জিয়াকে সমাহিত করা হয়। দাফনের সময় সেখানে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
খালেদা জিয়ার বিদায়ের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি দীর্ঘ ও ঘটনাবহুল অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল।
-এম. এইচ. মামুন










