মায়ের কফিনের পাশে বসে কোরআন তেলাওয়াত করছেন তারেক রহমান

এক দীর্ঘ ও কণ্টকাকীর্ণ রাজনৈতিক জীবনের অবসান ঘটিয়ে না ফেরার দেশে চলে যাওয়া মা বেগম খালেদা জিয়ার কফিনের পাশে বসে কোরআন তেলাওয়াত করছেন বড় ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আজ বুধবার সকালে গুলশানের বাসভবনে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়।
সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে জাতীয় পতাকায় মোড়ানো বেগম খালেদা জিয়ার মরদেহবাহী কফিনটি গুলশানের বাসভবনে পৌঁছায়। এরপর দীর্ঘ দেড় দশকের নির্বাসন কাটিয়ে গত সপ্তাহে দেশে ফেরা তারেক রহমানকে দেখা যায় মায়ের কফিনের পাশে বসে পরম মমতায় কোরআন তেলাওয়াত করতে।
এ সময় তার পাশে বসে দোয়া-দরুদ পড়ছিলেন সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, কন্যা জাইমা রহমান এবং প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী সৈয়দা শামিলা রহমান সিঁথি। সেখানে আরও উপস্থিত ছিলেন কোকোর দুই মেয়ে জাহিয়া রহমান ও জাফিয়া রহমান।
মায়ের শেষ বিদায়ে পাশে ছিলেন খালেদা জিয়ার ছোট ভাই শামীম এস্কান্দার, স্ত্রী কানিজ ফাতেমা, মেজ বোন সেলিমা ইসলাম, প্রয়াত ভাই সাঈদ এস্কান্দারের স্ত্রী নাসরিন এস্কান্দারসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা। এছাড়াও জুবাইদা রহমানের মা সৈয়দা ইকবাল মান্দ বানু ও বড় বোন শাহিনা জামান খান উপস্থিত ছিলেন। দলীয় নেতাদের মধ্যে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ও হাফিজ উদ্দিন আহমেদসহ জ্যেষ্ঠ নেতারা প্রিয় নেত্রীকে শেষ শ্রদ্ধা জানান।
উল্লেখ্য, ২০১০ সালের ১৩ নভেম্বর ঢাকা সেনানিবাসের মইনুল রোডের বাড়ি থেকে উচ্ছেদ হওয়ার পর থেকে গুলশানের ‘ফিরোজা’ ভবনে বসবাস শুরু করেন খালেদা জিয়া। অন্যদিকে, তারেক রহমান যে বাড়িতে অবস্থান করছেন (১৯৬ নম্বর বাড়ি), সেটি রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতের পর তৎকালীন সরকার বেগম খালেদা জিয়াকে বরাদ্দ দিয়েছিল। কয়েক মাস আগে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই বাড়ির যাবতীয় দলিলপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপি চেয়ারপারসনের কাছে হস্তান্তর করে।
বেলা ১১টা ০৪ মিনিটে গুলশানের বাসভবন থেকে মরদেহবাহী গাড়িবহর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছে। বাদ জোহর দুপুর ২টায় সেখানে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজায় নারীদের অংশগ্রহণের জন্য পৃথক ব্যবস্থা রাখা হয়েছে এবং নিরাপত্তার স্বার্থে ব্যাগ বহন না করার অনুরোধ জানিয়েছে বিএনপি ও প্রশাসন।
বিকেল সাড়ে ৩টায় জিয়া উদ্যানে স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশেই তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হবে।

 

-এম. এইচ. মামুন