‘ফিরোজা’ থেকে জানাজাস্থলে খালেদা জিয়ার মরদেহ

জাতীয় পতাকায় মোড়ানো কফিনে শেষবারের মতো নিজের বাসভবন ‘ফিরোজা’ ছাড়লেন তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। আজ বুধবার বেলা ১১টা ০৪ মিনিটে তাকে বহনকারী গাড়িবহর গুলশানের বাসভবন থেকে জানাজার উদ্দেশ্যে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের পথে রওনা হয়।

এর আগে, সকাল ৯টার কিছু আগে এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে তার মরদেহ বের করা হয় এবং ৯টা ১৫ মিনিটে তা গুলশানের বাসভবনে পৌঁছায়। সেখানে পরিবারের সদস্য ও দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহকর্মীরা তাকে শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানান।

খালেদা জিয়ার মরদেহবাহী গাড়িবহরে লাল-সবুজ রঙের বিশেষ বাসটিও রয়েছে। কফিনের সঙ্গে জানাজাস্থলে যাচ্ছেন তারেক রহমান, ডা. জুবাইদা রহমান, জাইমা রহমান এবং প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রীসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা।

এদিকে বেলা বাড়ার সাথে সাথে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ও সংসদ ভবন এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা লাখো মানুষ তাদের প্রিয় নেত্রীর জানাজায় অংশ নিতে সেখানে অবস্থান করছেন। বিপুল এই জনসমাগম সামলাতে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুরো এলাকাকে রেড, হোয়াইট ও গ্রিন—এই তিনটি নিরাপত্তা জোনে ভাগ করা হয়েছে। সেখানে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশের সমন্বয়ে কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টায় এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চিরবিদায় নেন বেগম খালেদা জিয়া। তার মৃত্যুতে আজ বুধবার থেকে আগামী শুক্রবার (২ জানুয়ারি) পর্যন্ত তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে সরকার। এ ছাড়া আজ বুধবার সারাদেশে সাধারণ ছুটি পালন করা হচ্ছে।

বাদ জোহর দুপুর ২টায় মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে জানাজা শেষে তাকে শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্বামী ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে তাকে সমাহিত করার মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটবে এক দীর্ঘ ও আপসহীন রাজনৈতিক অধ্যায়ের।

বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম জানান, জানাজা ও দাফন প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে ২৭ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। দাফন চলাকালীন জিয়া উদ্যান এলাকায় জনসাধারণের প্রবেশাধিকার সীমিত থাকবে।

-এম. এইচ. মামুন